ঢাকা     রোববার   ২২ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৯ ||  ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীকে হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৫, ২৫ জানুয়ারি ২০২২  
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীকে হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইদ হাসান বাদল হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিটফোর্ড হাসপাতালের এমএলএসএস শেফালীসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক বেগম জেসমিন আরা বেগম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলো—শেফালীর আত্মীয় নয়ন ও আক্কাস বেপারী।

সাইদ হাসান বাদল ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত মিটফোর্ড হাসপাতালের অ্যাকাউন্টস সেকশনে অফিস সহকারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৯৯ সালে ওই হাসপাতালের এমএলএসএস শেফালীকে গোপনে বিয়ে করেন সাইদ। বিয়ের পর তাদের কন্যা সন্তান হয়। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। পরে স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়।

২০১২ সালের ১ জানুয়ারি ভাই জাহিদ হাসানসহ দেশে ফেরেন। তার ভাতিজা প্রাইভেটকার নিয়ে তাকে রিসিভ করতে বিমানবন্দরে যান। সাইদ দেশে আসার খবর শুনে শেফালীও বিমানবন্দরে যান। বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়ার পথে বাদলকে শসা খাওয়ান শেফালী। এর পর মিটফোর্ড হাসপাতালের ব্ল্যাড ব্যাংকের পূর্বদিকে টিনশেড কক্ষে জাহিদ হাসানকে রেখে শেফালী ও সাইদ লাগেজসহ শেফালীর বাসায় চলে যান। পরে শেফালী জাহিদকে জানান, সাইদ অসুস্থ। তাকে মিটফোর্ড হাসাপাতালে নিতে হবে। সাইদকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সাইদের ভাই ডা. শহিদ হাসান কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১২ সালের ২৪ জুন তিন আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ৩০ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের পক্ষে তিনজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামুন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়