ঢাকা     রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৯ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

আইএমইআই নম্বর পাল্টে স্টিকার দিতেন মেইড ইন চায়না-ভিয়েতনাম-ফিনল্যান্ড

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৬, ৮ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২২:৫৬, ৮ আগস্ট ২০২২
আইএমইআই নম্বর পাল্টে স্টিকার দিতেন মেইড ইন চায়না-ভিয়েতনাম-ফিনল্যান্ড

স্বপনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম শ্রেণি হলেও প্রযুক্তিগতভাবে সে অত্যন্ত দক্ষ। প্রথমে বিনা বেতনে মোবাইল সার্ভিসিং এর কাজ শেখা শুরু করে। পরে ইউটিউব থেকে আরও জ্ঞান অর্জন করে। এক পর্যায়ে সে নিজেই অভিনব পদ্ধতিতে নকল মোবাইল তৈরি এবং আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করে মোবাইলের গায়ে মেইড ইন চায়না, ভিয়েতনাম, ফিনল্যান্ডসহ বাহারি নাম লিখে আসলের মতো প্যাকেটিং করতো।   

অবশেষে রাজধানীর গুলিস্তান থেকে মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের মূল কারিগর মো. স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। এসময় বিপুল পরিমাণ মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এক বছর ধরে কারখানাটি পরিচালনা করলেও তার কোনও লাইসেন্স নেই।  

সোমবার (৮ আগস্ট) বিকেলে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান। 

এসময় ভুয়া আইএমইআই মোবাইল ১৪৯৫টি, মোবাইলের নকল ব্যাটারি ৩৩৭০টি, হেডফোন ১২০টি, চার্জার ক্যাবল ৩৮৫টি, নকল মোবাইল চার্জার ১১৫৫টি, সেলার মেশিন ১টি, হিটগান মেশিন ১টি, এলসিডি মনিটর ৪৩টি, ইলেকট্রিক সেন্সর ১০টি, আইএমইআই কাটার মেশিন ১৩টি এবং বিপুল পরিমাণ ভুয়া আইএমইআই স্টিকার ও বারকোড উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, স্বপন দুই বছর আগে ঢাকায় কাজের সন্ধানে এসে প্রথমে মতিঝিলে একটি অফিসে পিয়নের চাকরি নেয়। অফিসে একজন স্টাফের মোবাইল মেরামত করতে গিয়ে সার্ভিসিংয়ের এক কারিগরের সাথে তার পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে সে জানতে পারে, ব্যবসাটি লাভজনক। তখন সে বিনা বেতনে কারিগরের সাথে কাজ শিখতে শুরু করে। পরবর্তীতে সে সার্ভিসিংয়ের ওপর বেশ দক্ষতা অর্জন করে। এ ছাড়া ইউটিউব থেকে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করে। এক পর্যায়ে সে নিজেই অভিনব পদ্ধতিতে নকল মোবাইল তৈরি এবং আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। প্রতিদিন সে ৫০টি মোবাইল তৈরি করতে পারত। কারখানায় আরও কারিগর ছিল। তারাও তাকে সহযোগিতা করত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খুচরা বিক্রেতারা তার কারখানা থেকে নকল মোবাইল ক্রয় করে নিয়ে যায়। এসব মোবাইল তৈরি করতে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হতো। কিন্তু ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করত। মোবাইলের বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করে তৈরি করা এসব মোবাইল সিলার ও হিটার মেশিনের সহায়তায় মোবাইলের গায়ে মেইড ইন চায়না, ভিয়েতনাম, ফিনল্যান্ডসহ বাহারি নাম লিখে আসল মোবাইলের মতো প্যাকেটিং করা হতো। 

জানা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ ধরনের মোবাইলের ক্রেতা। মোবাইলগুলোতে সিম ইনসার্ট করলে ‘বিটিআরসির ডাটাবেজে হ্যান্ড সেটটি নিবন্ধিত নয়’ এই মেসেজ আসে। মোবাইলগুলো বিক্রির পর অধিকাংশই কোনও না কোনও সমস্যার কারণে গ্রাহক অভিযোগ করত। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা গ্রাহকের কাছ থেকে মোবাইলগুলো সার্ভিসিংয়ের নাম করে কারখানায় পাঠিয়ে দিতো। কিছুদিন পর মেরামত করে গ্রাহকের কাছে ফেরত দেওয়া হতো। গ্রাহক দোকানে অবস্থানকালে বুঝতে পারতেন তার মোবাইল ঠিক আছে। কিন্তু দোকান থেকে বের হওয়ার পরেই মোবাইলে সমস্যা দেখা দিত। তখন গ্রাহক আবার অভিযোগ করলে তারা মোবাইলটি ফেরত রেখে পুনরায় মেরামত করার প্রতিশ্রুতি দিত। এভাবে গ্রাহক হয়রানি হতে হতে নষ্ট মোবাইলটি আর ফেরত নিতে আসতেন না। তখন পুনরায় মেরামত করে নতুন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে দিত। এ পর্যন্ত তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দশ হাজারের বেশি মোবাইল বিক্রি করেছে। এসব নকল মোবাইল বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়। 

ঢাকা/মাকসুদ/এনএইচ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়