ঢাকা     বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ২০ ১৪২৯ ||  ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

‘লাইসেন্স ছাড়াই রিক্রুটিং এজেন্সি খুলে মানবপাচার করেন জাবেদ’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫০, ১১ আগস্ট ২০২২  
‘লাইসেন্স ছাড়াই রিক্রুটিং এজেন্সি খুলে মানবপাচার করেন জাবেদ’

আটক ২ জন

রাজধানীর পল্টন থেকে সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের হোতাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে, ভুয়া সিল, পাসপোর্ট, জাল ভিসা ও টিকিট তৈরির জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে র‌্যাব-৩ এর পুলিশ সুপার বীনা রানী দাস এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বুধবার (১০ আগস্ট) পল্টন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মানবপাচার চক্রের হোতাসহ মো. জাবেদ হোসেন এবং তার অন্যতম সহযোগী মো. আবির ওরফে শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

বীনা রানী দাস বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের সদস্য। জাবেদ চক্রের হোতা। সে ২০০৪ সাল থেকে ওমানে অবস্থান করছেন। ওমানের একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তার মা ২০১৮ সাল থেকে ওমানে অবস্থান করে চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সহযোগিতা করে আসছেন। তাদের জনশক্তি রপ্তানির কোন লাইসেন্স নেই। কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানির নামে অবৈধভাবে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে লোক প্রেরণ করে আসছেন।

তিনি বলেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ বেতনে জনশক্তি প্রেরণের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া ভিসা এবং ভুয়া টিকিট ভুক্তভোগীদের হাতে ধরিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীরা ভিসা এবং টিকিট নিয়ে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা এবং টিকিট জাল হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেন। এভাবে ২০১৮ সাল থেকে চক্রটি জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স ছাড়া ৪ বছরে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক নারীকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে পাচার করে। যারা বিদেশ গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে এই চক্র শতাধিক লোককে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রেরণের প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া ভিসা এবং ভুয়া টিকিট সরবরাহ করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

র‌্যাব আরও জানায়, জাবেদ ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ২০১১ সালে সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। জাবেদের বাবা দীর্ঘদিন বাবুর্চি হিসেবে দুবাই কাজ করেন। বর্তমানে তার মতিঝিল এলাকায় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর রয়েছে। ২০১২ সালে জাবেদ হোটেলের ওয়েটার ভিসায় দুবাই গিয়ে সেখানে ৪ বছর অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পর ২০১৮ সাল থেকে সে প্রতারণা এবং মানবপাচারকে তার পেশা হিসেবে বেছে নেয়। তার ট্র্যাভেল এজেন্সির কোনো লাইসেন্স নেই। কিন্তু জাবেদ ট্র্যাভেল এজেন্সি নামে তার অফিস পরিচালনা করে আসছে। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে সে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে নারী কর্মীদের মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে প্রেরণ করে। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের পর সে পুরুষ কর্মীদের বিদেশ প্রেরণের জন্য পাসপোর্ট ও টাকা সংগ্রহ করে প্রতারণামূলকভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।

র‌্যাব জানায়, তারপর সে তার অফিসের কম্পিউটার ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের ভুয়া ভিসা তৈরি করে এবং ভিসায় উদ্ধারকৃত মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের নকল সিল ব্যবহার করে ভুয়া ভিসাটি আসল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। অতপর ভুয়া ভিসা, নকল টিকিট ও নকল বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ভিকটিমকে সরবরাহ করে। ভুক্তভোগীরা ভিসা এবং টিকেট নিয়ে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা এবং টিকেট জাল হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দিলে সে পুনরায় নতুন ভিসা ইস্যু করার জন্য সময় চায়। কেউ কেউ তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে পুনরায় নতুন ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে। অন্যদিকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের মধ্যে কেউ টাকা ফেরত চাইলে সে ব্যাংক চেক দেয়। কিন্তু চেক নগদ করতে গেলে তারা জানতে পারেন জাবেদের অ্যাকাউন্টে কোন টাকা নেই। এভাবে সে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। তার নামে মানবপাচার ও প্রতারণার দুটি মামলা রয়েছে। জাবেদের অন্যতম সহযোগী আবির ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে ২০১৮ সালে এয়ারপোর্ট ক্লিনার হিসেবে ওমান গমন করে। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে আসার পর সে তার খালাত ভাই জাবেদের সঙ্গে প্রতারণা এবং মানবপাচারকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। 

/মাকসুদ/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়