ঢাকা     শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৬ ১৪২৯ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

দুর্নীতির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রারকে শোকজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৯, ১২ আগস্ট ২০২২  
দুর্নীতির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রারকে শোকজ

শর্মি পালিত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়ার সাব-রেজিস্ট্রার শর্মি পালিতের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দেওয়া, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বারবার সতর্ক করার পরও অনিয়ম অব্যাহত রাখায় কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছে নিবন্ধন মহাপরিদর্শকের কার্যালয়।

গত ৮ আগস্ট নিবন্ধন মহাপরিদর্শক শহিদুল আলম ঝিনুক ওই সাব-রেজিস্ট্রারকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেন। চিঠি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রার শর্মি পালিতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও শোকজ লেটার দেওয়ার বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রারকেও নির্দেশনা দিয়েছেন শহিদুল আলম ঝিনুক।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকেলে নিবন্ধন মহাপরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে ওই সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে তাকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, গত ৮ আগস্ট শোকজ লেটারে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও ডাকযোগে নোটিশ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমা।

সাব-রেজিস্ট্রার শর্মি পালিত শোকজ লেটারের জবাব দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে জেলা রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আমার জানামতে, চিঠি এখনও পাননি তিনি। এর মধ্যে মহরমের বন্ধ ছিল। তার দুর্নীতি, অনিয়মের বিষয়ে আইজিআর মহোদয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট
পাঠিয়ে দেবো।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং নিবন্ধন মহাপরিদর্শকের ঢাকা কার্যালয়ে একাধিক ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাব- রেজিস্ট্রার শর্মি পালিত যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরই ক্ষমতার অপব্যবহার করে গাছবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন।
এজলাসে না বসে পৃথক একটি রুমে দলিল সম্পাদনের নামে বিশ্বস্ত কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার অফিস না করলেও পরে রোববার এসে বৃহস্পতিবারের হাজিরা দেওয়া, অন্যান্য দিনগুলোতে প্রায় প্রতিদিন ১১টার পরে অফিসে আসা, ইচ্ছেমতো অফিস থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সব রেকর্ডপত্র ঠিক থাকলেও সারাদিন অপেক্ষা করিয়ে কোনো অজুহাত ছাড়াই দলিল রেজিস্ট্রি না করে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি, সেবাপ্রার্থীসহ অফিস স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন শর্মি। বিশেষ করে, দলিল সম্পাদনে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার
গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শর্মির বিরুদ্ধে। তিনি ও তার কর্মচারী সিন্ডিকেটের অপকর্মে জমির ক্রেতা-বিক্রেতা, দলিলদাতা-গ্রহিতা, দলিল লেখকসহ সেবাপ্রার্থী মানুষ অতীষ্ঠ। এমনকি, দলিল লেখকদের কাছ থেকে ফি‘র নামে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে, যা চন্দনাইশের সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, জেলা রেজিস্ট্রারসহ সবাই অবহিত। তাদেরকে লিখিতিভাবে শর্মি পালিতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে তলব করে শর্মি পালিতকে সতর্ক করা হয়। জেলা রেজিস্ট্রারও সস্প্রতি তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করা হলেও শর্মি পালিত ফোন ধরেননি।

এদিকে, শর্মি পালিতকে অপসারণের দাবিতে বুধবার (১০ আগস্ট) থেকে টানা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে দলিল লেখক সমিতি। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী।

দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘এই সাব- রেজিস্ট্রার যোগ দেওয়ার পর থেকেই গাছবাড়িয়া সাব-
রেজিস্ট্রি অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তার জ্বালায় শুধু দলিল লেখকরাই নন, সেবাপ্রার্থী মানুষ অতীষ্ঠ। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন সবমহলকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রকার প্রতিকার না পাওয়ায় ওই সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’

নঈমুদ্দীন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়