ঢাকা     শুক্রবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৫ ১৪২৯ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

আদালতের প্রশ্ন, আগুনে মারা যাওয়া ৬ জনের কী দোষ?

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ১৬ আগস্ট ২০২২  
আদালতের প্রশ্ন, আগুনে মারা যাওয়া ৬ জনের কী দোষ?

পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁর ছয় কর্মচারী নিহত হয়েছেন

রাজধানীর চকবাজারে চারতলা ভবনে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার বরিশাল হোটেল মালিক মো. ফখর উদ্দিনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আসামিরপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে শুনানি করেন। শুনানির এক পর্যায়ে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আদালত জানতে চান, ‘আগুনে যে ৬ জন লোক যে মারা গেলো তাদের কী দোষ।’

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত আইনজীবীদের কাছে একথা জানতে চান। এদিকে আদালত ফখর উদ্দিনের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

গত ১৫ আগস্ট চকবাজারের পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন শুভ্যাডা এলাকার জিয়ানগর থেকে ফখর উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিন দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই রাজীব কুমার সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ভবন মালিক রানা ওই ভবনে কোনও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না রেখে মানুষের জীবন ও মালামাল ধ্বংস হতে পারে জেনেও অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভবনের ভেতরে প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিক জাতীয় মালামাল গুদামজাত করার জন্য গোডাউন ও হোটেল ভাড়া দেয়। হোটেল মালিক ফখর উদ্দিন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না রেখে মানুষের জীবন ও মালামাল ধ্বংস হতে পারে জেনেও অধিক মুনাফা লাভের আশায় ব্যবসা পরিচালনা করেন। দুই আসামির অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যের দ্বারা জীবন বিপন্নের শামিল। তাদের অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যকলাপের ফলে আগুনের ঘটনা ঘটে ওই খাবার হোটেলে আগুনে পুড়ে ৬ জন মারা ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

এমতাবস্থায় মামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে ভবনের মালিক ও হোটেল মালিক কতটুকু অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যকলাপ করেছে, কেন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা হলো না এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল; মূলত কী কারণে এ ঘটনা ঘটলো- ইত্যাদি বিষয়ে আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামিপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তারা বলেন, ফখর উদ্দিন এ ঘটনার সাথে জড়িত না। তিনি রুটি, পুরির দোকান চালায়। লাকড়ি, কমার্শিয়াল গ্যাস দিয়ে দোকান চালায়। ছোট একটি হোটেলের মালিক।

তখন বিচারক জানতে চান, ৬ জন লোক যে মারা গেলো তাদের কী দোষ। না তারা নিজে নিজে মারা গেছেন? এ ঘটনায় তাকে জামিন দিলে সমাজে কী বার্তা যাবে। তখন আইনজীবী বলেন, যে ধারায় মামলা করা হয়েছে তা জামিনযোগ্য।

তখন বিচারক বলেন, সমাজের লোক বলবে ৬ জন লোক মারা গেল আর আদালত আসামিকে জামিন দিয়ে দিলেন। জামিনযোগ্য ধারা হলেও, এখন জামিন দিতে পারবো না।

এরপর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজীব কুমার বলেন, দোকানে অগ্নিনির্বাপণের যন্ত্র নেই। ওই দোকানের গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে আগুন লেগেছে। ২৪ ঘণ্টায় সিলিন্ডার জ্বালিয়ে রাখে। আস্তে আস্তে গরম হয়ে ব্লাস্ট হয়েছে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ফখর উদ্দিনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসে ১০টি ইউনিট। পরে ভেতর থেকে ছয় জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বড় ভাই মো. আলী চকবাজার থানায় মামলা করেন।

ঢাকা/মামুন/এনএইচ   

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়