ঢাকা     বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২৫ ১৪২৯

বুয়েট শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে যা পেলো ডিবি পুলিশ

মামুন খান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৭, ২৯ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১১:০৯, ২৯ নভেম্বর ২০২২
বুয়েট শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে যা পেলো ডিবি পুলিশ

প্রতীকী ছবি

আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অফিস সহকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত না করেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নিখিল রঞ্জন ধরের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অনৈতিক কাজের অভিযোগ তোলা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনেও প্রকাশ করে। এতে করে শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর হেয় প্রতিপন্ন হন। পরে তদন্ত করে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সেই কয়দিন পাথরের মতো বেঁচে ছিলাম।’

আরও পড়ুন: হাত বদলে প্রশ্নপত্র লাখ থেকে কোটি টাকায় বিক্রি

পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলায় গত ১০ নভেম্বর পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ। পাবলিক পরীক্ষা আইনে ১৫ জনকে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের সাব-ইন্সপেক্টর শামীম আহমেদ। তবে বুয়েট শিক্ষক ড. নিখিল রঞ্জন ধরের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার বিষয়ে জড়িত থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলার দায় প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হলেন-আহ্ছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি টেকনিশিয়ান মুক্তারুজ্জামান রয়েল, অফিস সহায়ক (পিয়ন) দেলোয়ার হোসেন, কর্মী রবিউল আউয়াল, জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা শামসুল হক শ্যামল, রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জানে-আলম মিলন, পূবালী ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জাবের ওরফে জাহিদ, পারভেজ মিয়া, মিজানুর রহমান মিজান, মোবিন উদ্দিন, সোহেল রানা, পরীক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম স্বপন, রাশেদ আহমেদ বাবলু, জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ ও রবিউল ইসলাম রবি।

মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ ও সোহেল বাদে অপর ১২ আসামির বিরুদ্ধে একই অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এমদাদুল হক খোকন বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সম্রাট, রব্বানী, রুবেল, আপন, উজ্জল, রাকিব, কাফি, নাদিম, রাজিব, লিটু, সবুজ, আলমাস আলী, মাইনুল, আতিক, মুকুল, জাকির, হেলাল ও মিঠুসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তদন্তকালে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা উদঘাটনসহ গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

আদালতে দেওয়া দেলোয়ারের জবানবন্দিতে নিখিল রঞ্জন ধরের নাম আসে। জবানবন্দিতে দেলোয়ার বলেন, ২০২১ সালে আহসান উল্লাহ ইউনির্ভাসিটির কাজী শফিকুল ইসলাম স্যারের অফিসের পিয়নের কাজ পান তিনি। এই বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপা ও পরীক্ষার টেন্ডার পায়। প্রশ্ন ছাপার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েল ছাপাখানায় সেও যেত। মুক্তারুজ্জামান ও পারভেজ তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেওয়ায় সে প্রেসের রবিউলের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। সে কাউকে প্রশ্নপত্র এনে দেয়নি ও কোনো টাকা পায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অল্প টাকায় পরীক্ষার টেন্ডারগুলো আনতেন বুয়েট শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর এবং তিনিই সব নিয়ন্ত্রণ করতেন।

তদন্তকালে গত বছর ৬ নভেম্বর ৫টি ব্যাংকের ১৫১১ পদে অফিসার ক্যাশ শূন্য পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময় দেলোয়ার প্রশ্ন নিখিল রঞ্জন ধরকে দেননি বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।

নিখিল রঞ্জন ধরের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া দেলোয়ারের জবানবন্দি অনুযায়ী ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আসামি ড. নিখিল রঞ্জন ধরের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার বিষয়ে জড়িত থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলার দায় প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নিখিল রঞ্জন ধরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার পর থেকে আমি দুঃখে পাথর গেছি। শারীরিক, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। সারাজীবন মাস্টারি করেছি, ছাত্র পড়িয়ে। তারপরও এমন একটা অভিযোগ আনা হলো। যা দুঃখজনক।’

উল্লেখ্য, গত বছর ৬ নভেম্বর দুপুর ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক হাজার ৫১১টি পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় পাঁচ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার পর চাকরি প্রত্যাশীদের অনেকেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনায় ১০ নভেম্বর তেজগাঁও জোনাল টিমের সাব-ইন্সপেক্টর সুকান্ত বিশ্বাস বাড্ডা থানায় মামলা করেন।

/মামুন/সাইফ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়