ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে পেঁয়াজ

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৬ ৮:১০:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৬ ১:২৫:৩১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অনিয়ন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুসারে, পেঁয়াজের উদ্ভব সম্ভবত মধ্য এশিয়াতে, আধুনিক ইরান ও পাকিস্তানে। পৃথিবীতে যখন কৃষি কাজের প্রচলন হয়নি সেই সময়েও খাদ্য হিসেবে পেঁয়াজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাগৈতিহাসিক লোকেরা কৃষিকাজ উদ্ভাবনের অনেক আগে থেকেই বুনো পেঁয়াজ খেতেন। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ইতিহাসের গোড়ার দিকে চাষ হওয়া কিছু ফসলের মধ্যে অন্যতম ছিল পেঁয়াজ।

প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চীনে পেঁয়াজের চাষাবাদ শুরু হয় এবং ভারতের প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রেও ওষুধ হিসেবে পেঁয়াজের উল্লেখ রয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দিতে চরকা সংহিতা নামক একই গ্রন্থে পেঁয়াজকে মূত্রবর্ধক, হজম সহায়ক, হৃৎপিণ্ড ও চোখের জন্য উপকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুমেরীয় সভ্যতার একটি গ্রন্থে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সালে পেঁয়াজ চাষাবাদের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে মিশরে পেঁয়াজ এসেছে আরো পরে। ধারণা করা হয় মিশরে পেঁয়াজ রোপণ করা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ সালে। প্রাচীন মিশরীয়দের কাছে পেঁয়াজ ছিল পূজনীয়। তারা মনে করতেন, মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তারা সমাধির মধ্যে পেঁয়াজ রাখতেন খ্রুব শ্রদ্ধার সঙ্গে। বহু পিরামিডের ভিতরের নানা চিত্রকর্মে পেঁয়াজের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমাধিতে বা মমির শরীরের অভ্যান্তরে পেঁয়াজ ব্যবহারের কারণ হতে পারে সেসময়কার প্রচলিত বিশ্বাস। পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধ ও জাদুকরী ওষুধি ক্ষমতায় মৃত মানুষ আবার নিঃশ্বাস নেয়া শুরু করতে পারে এমন একটা বিশ্বাস করা হতো। বাইবেলেও ইসরাইলীদের পেঁয়াজ খাওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে মিশরীয়দের তুলনায় গ্রিকরা পেঁয়াজের ব্যবহারে ছিল কয়েক ধাপ এগিয়ে। তারা পেঁয়াজের বহু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে অবগত ছিল। ফলে প্রাচীন গ্রিসের ক্রীড়াবিদরা প্রতিযোগিতার আগে প্রচুর পেঁয়াজ খেত। এমনকি শরীরে পেঁয়াজের রস মালিশ করতো। রোমানরাও নিয়মিত পেঁয়াজ খেত এবং এর গুণ সম্পর্কে জানতো। তারা দাঁতের ব্যথা কিংবা অনিদ্রা দূর করতে পেঁয়াজ খেত। প্রাচীন রোমে যে ব্যাপক আকারে পেঁয়াজের চাষ হতো তার প্রমাণ পাওয়া যায় অগ্নুৎপাতে চাপা পড়ে যাওয়া পম্পেই নগরীতে।

রোমান চিকিৎসক পেডানিয়াস ডায়োসোক্রেডিস ১০০ খ্রিস্টাব্দে পেঁয়াজের বেশ কয়েকটি ওষুধি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন। রোমানরা দুর্বল দৃষ্টিশক্তি, দাঁতব্যথা, আমাশয়, মুখের ঘা, কুকুরের কামড় কিংবা অনিদ্রা দূর করতে পেঁয়াজ খেত। মধ্যযুগে ইউরোপীয় খাবারের প্রধান তিনটি উপাদান ছিল মটরশুটি, পেঁয়াজ ও বাঁধাকপি। এছাড়া মাথাব্যথা, চুলের ক্ষতি এড়ানোসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে পেঁয়াজের জনপ্রিয়তা ছিল। সেসময় মানুষ ঠিক মুদ্রার মতো পেঁয়াজ ব্যবহার করতো। নানা কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কিংবা ভাড়া পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও পেঁয়াজের প্রচলন ছিল। এছাড়া বিয়েতে উপহার হিসেবে পেঁয়াজ দেয়া হতো। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় চীন ও ভারতে।


ঢাকা/ফিরোজ/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন