Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

পেট্রোলিয়াম জেলির আরও ব্যবহার

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:১৮, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
পেট্রোলিয়াম জেলির আরও ব্যবহার

ঋতুচক্রের হিসাবে দেশে শীতকাল এখনো শুরু হয়নি। তারপরও বাতাসে বইছে শীতের আমেজ। তাই পেট্রোলিয়াম জেলি কিনে আনতে পারেন এখনই। সাধারণত শীতকালে আমরা ত্বকের যত্নে এই প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। কিন্তু ত্বকের যত্নের বাইরেও নানা কাজে ব্যবহার করতে পারেন পেট্রোলিয়াম জেলি।

* ক্ষত সারিয়ে তুলতে : পেট্রোলিয়াম জেলি মার্কেটে এসেছে প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে। ১৮৫৯ সালে আমেরিকান রসায়নবিদ রবার্ট অগাস্টাস চেসব্রাফ পেট্রোলিয়াম জেলি আবিষ্কার করেন- তখন থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রোডাক্টে তেমন পরিবর্তন আসেনি। এটি এখনো ত্বক বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রিয়, কারণ এটি ত্বকে পানি ধরে রাখে। এটা ক্ষতের জন্য ভালো, কারণ ক্ষত নিরাময় হতে আর্দ্রতা প্রয়োজন হয়। ক্ষত আর্দ্রতা পেলে দ্রুত নিরাময় হতে পারে, কিন্তু শুষ্ক ত্বকের ক্ষত সেরে ওঠতে এর দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এ তৈলাক্ত ময়েশ্চারাইজার নতুন ক্ষতের লালতা ও ইনফেকশনের সম্ভাবনাও কমাতে পারে। পেট্রোলিয়াম জেলি ক্ষতের ওপর প্রয়োগ করলে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয় না।

* একজিমা ও সোরিয়াসিসে সমস্যায়: কিছু স্বাস্থ্য সমস্যায় ত্বকের পক্ষে আর্দ্রতা ধরে রাখা ও খারাপ কিছু বের করে দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ত্বক খুব শুষ্ক হলে তা ফেটে ব্যাকটেরিয়ার অণুপ্রবেশ ঘটতে পারে। এসব স্বাস্থ্য সমস্যায় পেট্রোলিয়াম জেলি আপনার ত্বককে সাহায্য করতে পারে ও ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। এটি প্রদাহ প্রশমিত করে ও ত্বককে আর্দ্র রাখে। একারণে সোরিয়াসিস ও একজিমার মতো ত্বকের সমস্যায় পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহারে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। পেট্রোলিয়াম জেলি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে ত্বক ভেজা থাকা অবস্থায় প্রয়োগ করুন।

* শিশুর ত্বকের চুলকানি প্রতিরোধে: পেট্রোলিয়াম জেলি নবজাতক ও শিশুকে ত্বকের চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে। আপনার পরিবারে অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস (একজিমা) থাকলে আপনার শিশুকে এ সমস্যা থেকে রক্ষা করার একটি সুলভ উপায় হচ্ছে পেট্রোলিয়াম জেলি। নবজাতকের বয়স তিন মাস হলেই পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারবেন।

* উকুন দূর করতে: মেয়নেসের মতো পেট্রোলিয়াম জেলিকেও উকুনের ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পেট্রোলিয়াম জেলি উকুনকে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু এটি উকুনের ডিমকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না। এর মানে হলো, উকুন নিয়ন্ত্রণে পেট্রোলিয়াম জেলি সেরা উপায় নয়। এর পরিবর্তে উকুন ও উকুনের ডিমকে ধ্বংস করতে পারে এমন ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন- এ ওষুধকে পেডিকুলসাইড বলে।

* ফোসকা প্রতিরোধে : দৌঁড়ের পূর্বে আপনার পা অথবা গোড়ালির নিচের অংশে কিছু পেট্রোলিয়াম জেলি মাখুন। এতে দৌঁড়ের সময় ঘর্ষণজনিত ফোসকা প্রতিরোধ হবে। আপনার ফোসকা ওঠে থাকলে পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহারে নিরাময় হবে।

* ডায়াপার র‍্যাশ দূর করতে: পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বককে বাইরের অপ্রীতিকর পদার্থ থেকে সুরক্ষা দেয়, যেমন- মল ও মূত্র। আপনার বেবির ডায়াপার পরার স্থানে র‍্যাশ ওঠলে ডায়াপার পাল্টানোর সময় পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক বিশেষজ্ঞরা পেট্রোলিয়াম জেলি পছন্দ করেন, কারণ এতে সুগন্ধি বা প্রিজারভেটিভ থাকে না। এটি শিশুর নিতম্ব ও মায়ের হাতের জন্য ভালো। এমন কোনো প্রমাণ নেই যে পেট্রোলিয়াম জেলির চেয়ে ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিম ভালো কাজ করে।

* পাইলসের অস্বস্তি কমাতে: আপনার পাইলস সমস্যা তীব্র হলে পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহারে আরাম পেতে পারেন। আপনার সেনসিটিভ স্কিনকে রক্ষা করতে অ্যানাসের ভেতর পেট্রোলিয়াম জেলি মাখতে পারেন। এতে মলত্যাগে অস্বস্তির মাত্রা কমে যাবে। আপনার চুলকানি ও ব্যথাও উপশম হতে পারে।

* উয়িন্ডবার্ন প্রতিরোধে: পেট্রোলিয়াম জেলি আপনার ত্বককে বাতাস ও ঠান্ডার সংস্পর্শ জনিত অস্বস্তি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে ত্বকে লালতা, ব্যথা অথবা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ সমস্যাকে উয়িন্ডবার্ন বলে। আপনার শরীরের যেসব অংশে বাতাস লাগে সেখানে পেট্রোলিয়াম জেলি প্রয়োগ করুন। সর্দিতে আক্রান্ত নাক শুকিয়ে গেলে পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহারে উপকার পেতে পারেন। কিন্তু ব্রণ-প্রবণ স্থানে এ প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না, কারণ পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকে ব্যাকটেরিয়া ও তেল আটকে রেখে আরো খারাপ করতে পারে।

* চোখের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে: আপনার চোখের চারপাশের ত্বক খুব পাতলা। এর অর্থ হলো, এটি সহজেই শুষ্ক হতে পারে। কিন্তু পেট্রোলিয়াম জেলির একটি লেয়ার আপনার চোখের পাতায় কিছু আর্দ্রতা সরবরাহ করতে পারে। এছাড়া পেট্রোলিয়াম জেলি হচ্ছে চোখের মেকআপ তুলে ফেলার অন্যতম নিরাপদ উপায়। কিন্তু চোখের ভেতর পেট্রোলিয়াম জেলি না ঢোকার বিষয়ে সতর্ক থাকুন- এটি অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা কম, কিন্তু ব্যাকটেরিয়া যোগ করতে পারে।

* নখের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে: নখকে ভালো আকৃতিতে রাখার জন্য দামি ক্রিমের প্রয়োজন নেই, পেট্রোলিয়াম জেলি আপনার হাতের সকল অংশকে আর্দ্র করতে পারে। নখের ভঙ্গুরতা, সৌন্দর্য হানিকর রেখা ও দাগ প্রতিরোধে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে নখ একটু আদ্র থাকা অবস্থাতেই এ প্রোডাক্ট প্রয়োগ করুন।

 

ঢাকা/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে