ঢাকা, সোমবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ফেইসবুকে প্রেম দূরেই ঠেলে না, কাছেও টানে

মারুফ খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৪ ৭:০৮:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৫ ৯:৫০:৫৪ এএম
তানিয়া সুলতানা ইতি ও আবু জিহাদ নূর

ভালোবাসা ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু শত সহস্র বছর ধরে লেখক, কবি, গীতিকার এর স্তুতি গেয়েছেন। একেক মানুষের কাছে প্রেমের সংজ্ঞা একেক রকম। আবার সবার জীবনে প্রেম একভাবে আসেও না। 

তথ্য প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে অন্যতম ফেইসবুক। অনেকেই মনের মানুষ খুঁজতে বেছে নেন এই মাধ্যম। আবার ফেইসবুকে অনেক গ্রুপও আছে যারা মনের মানুষ খুঁজতে সাহায্য করে। তেমনি একটি গ্রুপ DSE. এই গ্রুপের পথচলা শুরু ২০১৪ সালে ১৪ মে। সাধারণত সচেতনতা এবং জনকল্যাণমূলক কাজগুলো করে তারা। পাশাপাশি এখানে রয়েছে ‘ম্যাচমেকিং’ সেগমেন্ট। এর মাধ্যমে অনেকেই খুঁজে পেয়েছেন মনের মানুষ।

তানিয়া সুলতানা ইতি ও আবু জিহাদ নূরের প্রেমের গল্পটাও এখন থেকেই শুরু। তাদের মধুর প্রেমের গল্প পড়ুন তানিয়া সুলতানার জবানীতে:

‘সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ DSE ‘ম্যাচমেকিং’ আয়োজন করে। রাত ১০টায় পোস্টটি দেয়া হয়। ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ও আমার একটি কমেন্টের সূত্র ধরে DSE-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে মেসেজ দেয়। এরপর আমরা নিজেরা প্রাথমিকভাবে পরিচিত হই। বলে রাখা ভালো, আরো অনেকেই DSE থেকে আমাকে নক করেছিল। কিন্তু কেন যেন ওর সঙ্গেই কথা বলা অব্যাহত থাকে। আমরা পরিচয়ের পর ৭-৮ দিন চ্যাটিং করে যতটা সম্ভব নিজেদের মধ্যে পরিচিত হবার চেষ্টা করি। খুব সম্ভব আট দিনের মাথায় ওর সাথে আমার ফোনে কথা হয়। উল্লেখ্য, ফোনে কথা বলার পূর্বে ও কখনোই ম্যাসেঞ্জারে কল করেনি বা বিরক্তিকর কিছু করেনি যা আমাকে আকৃষ্ট করে।

ফেইসবুকের প্রেম মানুষ বিশ্বাস করে না কিন্তু আমি বিশ্বাস করেছি। ওর আইডি ঘেঁটে দেখেছি, কার সাথে চলাফেরা করে জেনেছি, কথা বলার পর নিশ্চিত হয়েছি- সে যা বলছে বা করছে তা ভণিতা নয়। সবথেকে বড় বিশ্বাস তৈরি হয়েছে এজন্য যে, আমরা নিজেদের ব্যাপারগুলো পরিষ্কার করে শেয়ার করেছি। ফেইক হলে এই কাজ কেউ করবে না। তবে প্রতারিত হবার ভয় ছিল। কিন্তু ও যখন বিয়ের জন্য পারিবারিকভাবে যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, সেগুলো নিতে শুরু করে তখন নিশ্চিত হয়েছি। 

আমাদের প্রথম দেখা হয় সিলেটে। প্রথম গিফট অনেকগুলো চকোলেট, একটা শো পিস, আর গাছ। গাছটা ইন্টারেস্টিং লেগেছে! খুব সুন্দর! এরপর বেশ বড়সড় একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত হয়। সবাই জানেন, সিলেটের মেয়েদের সিলেটের বাইরে পরিবার থেকে বিয়ে দেয়ার রেওয়াজ নেই। এ নিয়ে আমাকে এবং ওকে যথেষ্ট স্ট্রাগল করতে হয়েছে। ওদের বাসা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে যেদিন দেখতে আসে, সেদিনই দু’জনই চেয়েছি- যেভাবেই হোক বিয়েটা যেন আজকেই হয়ে যায়। হয়েছেও তাই।

আমাদের প্রেম দুই মাস ছয় দিনের। তারপরই আমরা বিয়ে করে ফেলি। একে অন্যকে হারিয়ে ফেলার ভয় কাজ করছিল। তাই যত দ্রুত সম্ভব বিয়েটা করে ফেলতে চাইছিলাম। আল্লাহ তা’আলা আমাদের কবুল করেছেন।’

DSE ম্যাচমেকিংয়ে জীবনসঙ্গী পেয়েছেন আয়েশা সুলতানা আজমি। তাদের প্রেমের গল্পটা শুনিয়েছেন আজমি:

‘সময়টা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। আমি সবসময় DSE-তে অ্যাক্টিভ থাকতাম। ও তখন নতুন অ্যাড হয়েছে। ২৬ তারিখ ও একটা পোস্ট করে ওর বাসায় দুইটা দোয়েলপাখি আসতো, গতরাতে ঝড়ের পর থেকে পাখিগুলা আর আসছে না! ও খুব চিন্তিত পাখিগুলো বেঁচে আছে কিনা এ নিয়ে। আমি সেখানে কমেন্ট করি। ঐ থেকে সে আমার পিছু নেয়।

শুরুতে ইনবক্সে কথা বলা। প্রায় মাসখানেক পর ও আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর আমাদের বিয়ে হয়। পাখিগুলো আর আসেনি, কিন্তু ওর জীবনের বড় পাখিটা ও পেয়ে গেছে।  আলহামদুলিল্লাহ্‌ এত ভালো একটা মানুষ পেয়েছি কি বলব! শুধু এটুকু বলতে চাই, DSE থেকে পাওয়া আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।’

DSE গ্রুপে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক সদস্য ম্যাচমেকিং-এর মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছেন মনের মানুষ। এই গ্রুপের অ্যাডমিনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন: ‘DSE ম্যাচমেকিং কাল হবে দেখলাম। মজার বিষয় হলো গত মাসে আমার বিয়ে হয়েছে, আর ২০১৭ সালে DSE গ্রুপের এই ম্যাচমেকিংয়ের মাধ্যমেই আমার স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েছি। এই গ্রুপের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

ম্যাচমেকিং প্রতি ইভেন্টে অংশ নেয় অন্তত এক হাজার প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে। পারিবারিক সম্মতিক্রমে বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত  যেকোনো ১৮+ মেয়ে এবং ২১+ ছেলে এখানে অংশ নিতে পারে। DSE গ্রুপের অ্যাডমিন নাজিয়া পুনম বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত ম্যাচমেকিং হয়ে আসছে। গত কয়েক ইভেন্টে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দুষ্টু সদস্যদের অংশগ্রহণে সত্যিকারের বায়োডাটাগুলো পণ্ড হয়ে যাচ্ছে। ইনবক্সে নানা অনৈতিক কুপ্রস্তাবপূর্ণ স্ক্রিনশট পাওয়া যাচ্ছে। একটা মানুষ নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে, বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে, সমাজের মানুষের খোটা শুনে অনেক বাধা বিপত্তির পর সাহস নিয়ে ম্যাচমেকিংয়ের জন্য অপেক্ষা করে। এটি মহৎ উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি উদ্যোগ। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শুধু বিয়ের উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের নিয়েই ম্যাচমেকিং অনুষ্ঠিত হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্ভরতার জায়গায় DSE সবসময়ই এগিয়ে। এই নির্ভরতা থেকেই বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের উদ্যোগ নেই আমরা। ম্যাচমেকিং তারই অংশ। জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া এবং বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এই সেগমেন্টের মূল উদ্দেশ্য। প্রেম বা বন্ধুত্ব করে সময় অপচয় বা প্রতারণার শিকার যাতে না হয় তা অ্যাডমিন প্যানেল থেকে মনিটরিং করা হয়।’

 

ঢাকা/তারা