ঢাকা, রবিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যে আচরণ করবেন না (শেষ পর্ব)

লাইফস্টাইল ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৭ ৮:১০:৫৪ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৭ ১২:২০:৪১ পিএম

আমরা হয়তো আমাদের জীবনসঙ্গীকে এমন কোনো বিষয় নিয়ে কথা শুনাই, যা নিয়ে পরে আমাদের আফসোস হয়। কিন্তু এমন কিছু আচরণ রয়েছে যার ফলে সম্পর্কে ঘুন ধরার পাশাপাশি বিবাহবিচ্ছেদও ঘটতে পারে। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

অনুভূতিতে আঘাত দেবেন না: আপনার সঙ্গী কোনো একটা বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে এড়িয়ে যাবেন না। এতে সে মনে কষ্ট পাবে। আপনার সঙ্গীর কথা এড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই সেটা আপনাকে আগে বুঝতে হবে। আপনি যদি এড়িয়ে যান তাহলে সে মনে করবে, সে আপনাকে খুশি রাখতে পারছে না। এই এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা মেয়েরা করে বেশি। ছেলেরা সবসময় চিন্তায় থাকে এই ভেবে যে, সে তার স্ত্রীকে খুশি করতে পারছে কিনা এবং এমন আচরণের ফলে তাদের মনে সন্দেহ জাগে এবং এর ফলে সম্পর্কে ঘুন ধরে। তাই এই রেষারেষি এড়াতে আপনার সঙ্গীর সাথে স্বাভাবিক আচরণ করুন যদি সে কিছু জিজ্ঞেস করে থাকে।

পরিবার নিয়ে বাজেকথা বলবেন না: আপনি আপনার সঙ্গীকে যত কটু কথাই বলেন না কেন, তার পরিবার নিয়ে বাজে কথা বলেছেন কি মরেছেন। এই ব্যাপারটা ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তারা তাদের স্ত্রীর পরিবার নিয়ে প্রায়শই উল্টাপাল্টা বলে ফেলে রাগের মাথায়। এতে আপনার সঙ্গিনী চরম কষ্ট পায়, সেটা আপনার বোঝা উচিত। অধিকাংশ মেয়ের একটাই দাবি, আপনি তাকে যা খুশি বলুন কিন্তু তার পরিবারকে নয়। তাছাড়া আপনি যদি আগের পক্ষের সন্তানসহ কাউকে বিয়ে করে থাকেন তাহলে সেই সন্তানকে আপনি ছোট করুন বা বাজে আচরণ করুন তা আপনার সঙ্গী কখনই চাইবে না। সুতরাং আপনার সঙ্গীর পরিবার বা কাছের কাউকে নিয়ে বাজে কথা বা সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।
অতিরিক্ত ব্যঙ্গ করবেন না: আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে কোনো ব্যাপার নিয়ে মজা বা ঠাট্টা করার সময় খেয়াল রাখবেন, তা যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়। তাকে আঘাত করে কোনো ঠাট্টা তামাশা করবেন না। আপনার অতিরঞ্জিত ব্যঙ্গ আপনার সঙ্গীকে অপমানজনক পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে এবং সে রাগ হতে পারে, কেননা সে আপনার কাছ থেকে এমনটি আশা করেনি। ঠাট্টা, তামাশা, মজা করবেন কিন্তু খেয়াল রাখবেন তা যেন আপনার সঙ্গীকে আঘাত না করে।

পেশাকে অপমান করবেন না: আপনি কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ থাকলে সম্মান আপনাকে আদায় করে নিতে হবে না, আপনি তা এমনিই পাবেন। এমিলি হাউস নামে একজন বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে বলেন, ‘পেশা নিয়ে অপমানজনক কথা বলার কাজটা মেয়েরা করে বেশি। অনেকসময় তারা তাদের নিজস্ব মতামতের প্রাধান্য খুঁজতে গিয়ে এই কাজটি করে বসে। তাছাড়া প্রায়শই দেখা যায় মেয়েরা নিজের মতো করে কিছু করতে চায়। তখন স্বামীর মতামতকে অগ্রাহ্য করে নানান অপমানজনক কথা তারা বলে ফেলে যা একজন পুরুষের মনে শঙ্কার জন্ম দেয়। সে মনে করে সে মনে হয় তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং এরকম আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন।’ আপনার সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করার দায়িত্ব আপনার হাতে ন্যস্ত। আপনার স্বামীর সাথে মতবিনিময় করে আপনার সংসার সুন্দর করে গুছিয়ে নিন।

অতিরিক্ত সমালোচনা করবেন না: আপনার সঙ্গী ভুল করলে তা ধরিয়ে দিয়ে শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব আপনার। তার মানে এই নয় যে, সবসময় তার সকল কাজের কোনো না কোনো খুঁত বের করে তাকে আপনি আঘাত করবেন। আপনি তার বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু বলুন তা আপনার সঙ্গী কখনই আশা করেন না, বরং তিনি মনে করেন আপনি সবসময় তার পাশে থাকবেন। আপনার সঙ্গীর কাজকে সমর্থন করুন। তার কাজের প্রশংসা করুন। তার মানে এই নয় যে, তাকে খুশি করতে তার ভুলেরও প্রশংসা করবেন। এতে করে তার মাথাগরম হওয়াটা স্বাভাবিক। আপনি আপনার সঙ্গীর প্রতি কতটা যত্নশীল তা আপনার ভালোবাসার মাধ্যমে প্রকাশ করুন।

সবসময় আমি আমি করবেন না: শুধুমাত্র নিজে নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলে মানুষ এমন কথা বলে থাকে। আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে এমন আচরণ করলে তার সেটা সহ্য না হওয়াই স্বাভাবিক। কোনো সম্পর্কে যদি আপনি শুধুমাত্র নিজের প্রাধান্য খুঁজেন, সেটা সম্পর্কের বারোটা বাজাবে। আপনি যদি আপনার সঙ্গীকে কোনো না কোনোভাবে বুঝিয়ে দেন যে আপনি তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট নন, তাহলে তা আপনাদের দাম্পত্য কলহের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হিংসা, বিদ্বেষ, রাগ, ক্ষোভ সবকিছু একসাথে হয়ে জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে এবং এভাবে একটি সম্পর্ক বিচ্ছেদের দিকে চলে যেতে পারে।

প্রাক্তনের কথা তুলবেন না: আপনার সঙ্গীর উপর রাগ হলে বা মনক্ষুন্ন হলে হুট করে আপনার পুরাতন প্রেমের সাথে বর্তমান সম্পর্কের তুলনা করবেন না। এ বিষয়ে মাইক গোল্ডস্টেইন নামে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আপনার পুরাতন প্রেম যদি নির্ভেজাল থাকতো তাহলে আপনি তার সাথেই ঘর করতেন। সঙ্গীর উপর রাগ হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন। হুটহাট করে পুরোনো কাসুন্দি ঘাটতে যাবেন না।’ আপনার পুরাতন সম্পর্ক যদি আপনার কাছে এতটাই মধুর হয়ে থাকে তাহলে তা আপনার সঙ্গীর জন্য চরম দুঃখের কারণ হবে। আপনি যদি কোনো কারণে আপনার সঙ্গীর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে তার কারণ অনুযায়ী আচরণ করুন। অযথা অপ্রাসঙ্গিক আচরণ থেকে বিরত থাকুন।


পড়ুন: * জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যে আচরণ করবেন না (প্রথম পর্ব)

 

ঢাকা/ফিরোজ