ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনার দুঃসময়ে আপনার যা দায়িত্ব

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৯ ৯:০১:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৯ ৯:০২:০৬ পিএম

অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণের হার। দিন যতো যাচ্ছে, আমাদের আরো সতর্ক হতে হবে, তেমনটাই বলছেন চিকিৎসক ও গবেষকরা। কিন্তু আমরা সে তুলনায় কতোটা সতর্ক?

করোনার এই দুঃসময়ে আমাদের প্রতেক্যেরই কিছু দায়িত্ব আছে। কারণ আমি বা আপনি সংক্রমিত হলে, আমাদের পরিবার-সমাজ এমনকি গোটা দেশই বিপদে পড়বে। তাই নিজেদের জায়গা থেকে দায়বোধটাও দ্রুত বাড়াতে হবে আমাদের। আপনি হয়তো এতোদিনে মিডিয়ার কল্যানে জেনেছেন কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তারপরও আপনাকে মনে করিয়ে দেয়া ও সতর্ক থাকতে বলার তাগিদ অনুভব করেই কিছু অনুরোধ-

* জরুরি প্রয়োজন (খাবার, ওষুধ কেনা, মোবাইলে ফ্ল্যাক্সি করা) ছাড়া এখন বাসা থেকে বের হবেন না।

* বাসা থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরে বের হতে হবে। সম্ভব হলে গ্লাভস পরবেন।

* বাসায় ঢুকেই আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জামাকাপড় নির্দিষ্ট স্থানে রাখা বা ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।

* আপনার ব্যবহৃত মাস্ক-গ্লাভস বা পিপিই রাস্তায় বা যেখানে সেখানে ফেলে দেয়া একটা গুরুতর অপরাধ এখন। কারণ আপনি নিজেও জানেন না সেসবে করোনাভাইরাস লুকিয়ে আছে কিনা। তাই সচেতন হয়ে ব্যবহারের পর সেসব ঢাকনাযুক্ত কোনো ডাস্টবিনে রাখুন।

* আপনার মতো লাখ লাখ মানুষ যেহেতু এখন বাসায় অবস্থান করছে, তাই ইলেকট্রিসিটি ও পানির উপর চাপ পড়ছে অনেক। তাই ঘরে অহেতুক যেন লাইট- ফ্যান না চলে, তা খেয়াল করুন। বিদ্যুতের অপচয় রোধ করুন।

* একইভাবে বার বার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া যেহেতু জরুরি এখন, তাই সেক্ষেত্রে পানির অপচয় রোধে সতর্ক হোন। অনেকেই আমরা পানির কল অনর্গল ছেড়ে রেখে হাত ধুই। এতে অনেক পানি অপচয় হয়। ভেবে দেখেছেন কি, এই কাঠফাটা গরমে পানি না থাকলে কী অবস্থা হবে?

* খবরে জানা গেছে, অনেকেরই করোনা উপসর্গ দেখা দিলেও তারা তা গোপন করেছে বা করছে। এতে করে তার পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ব্যাপারে আপনাকে আতঙ্কিত হলে চলবে না। নিজেকে বাঁচাতে, পরিবারকে ও সমাজকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে সামনে। মনে রাখুন, কোভিড-১৯ রোগ হলেই সবাই মারা যায় না। অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন স্বাভাবিক জীবনে।

* সামনে রমজান মাস আসছে, এই বিশেষ মাস সহ বাজারে খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক বিত্তবানই কয়েক মাসের খাদ্য সামগ্রী কিনে বাসায় মজুদ করছেন। যারা এমনটা করছেন তারা কি ভেবে দেখেছেন তাদের কারণে কতো শত মানুষ খাবার কেনা থেকে বঞ্চিত হবে? এই স্বার্থপরতা থেকে নিজেকে বিরত রাখা ও আপনার মতো উচ্চবিত্তদের কারণে যেন কৃত্রিম খাদ্য সংকট তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। একই সাথে আপনার প্রতিবেশীরা খাদ্য সংকটে পড়েছে কিনা, তা জেনে সাধ্যমতো তাদেরকে সহায়তা করাও এখন সময়ের দাবি।

* যেহেতু করোনার কারণে সব কিছু লকডাউন হয়ে আছে, তাই আপনার আশেপাশেই হয়তো অনেক স্বল্প আয়ের মানুষ, শ্রমিক আছে, যারা কর্মহীন হয়ে দারিদ্র্যে দিন কাটাচ্ছেন। সামর্থ্য থাকলে তাদেরকে আর্থিকভাবে বা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করুন। এখন অনেক বিত্তবানই এ কাজে এগিয়ে এসেছেন। এক্ষেত্রে যারা সত্যিকার অর্থেই কারো কাছ থেকে সহায়তা পায়নি এখনো, তাদেরকে সহায়তায় প্রাধান্য দিন আগে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও এখন সংকটে পড়বে, তাদের সম্মান বজায় রেখে পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করুন।

* আপনার আশেপাশেই কেউ হয়তো করোনা পজেটিভ হয়েছে। তাকে কি দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়া মানবিক? ডাক্তাররা বলছেন সেক্ষেত্রে তাকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে, নিজের যথেষ্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ওই রোগী চিকিৎসা সেবা যেন পায়, তা নিশ্চিত করতে পারলে আপনি হবেন সমাজের দায়িত্বশীলদেরই একজন।


ঢাকা/ফিরোজ