RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৬ ১৪২৭ ||  ১৩ সফর ১৪৪২

যেসব লক্ষণে বুঝবেন সন্তান অবসাদে ভুগছে (শেষ পর্ব)

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫০, ১৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০৫:৫৪, ৩০ আগস্ট ২০২০
যেসব লক্ষণে বুঝবেন সন্তান অবসাদে ভুগছে (শেষ পর্ব)

মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা বয়সের উপর নির্ভর করে না। শিশু-কিশোরাও বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। আপনার সন্তান হয়তো তার বিষণ্নতার বিষয়টি বোঝাতে বা প্রকাশ করতে পারছে না। শিশু-কিশোরদের বিষণ্নতার ১৩টি লক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব। আপনার সন্তানের মধ্যে এসব লক্ষণ দেখলে শিশুবিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

মজাদার কিছুতে আপনার সন্তান সাড়া দেয় না: করোনা পরিস্থিতি, হোমওয়ার্, বন্ধুত্বের নাটকীয়তা কিংবা সংগীত বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার কারণে একটা নির্দিষ্ট সময়ে আপনার সন্তান মানসিক চাপে থাকতে পারে। কিন্তু সন্তানের স্বাভাবিক মানসিক চাপ যদি মজার কোনো পদক্ষেপের পরও না কমে তাহলে সতর্ক হোন, কেননা এটা বিষণ্নতার অনেক বড় একটি লক্ষণ। ড. ওয়াকাপ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সাধারণত বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে বা আড্ডা মেরে কাজের উদ্যম ফিরিয়ে আনি, কিন্তু বিষণ্নতায় ভোগা মানুষজন এগুলোতে তেমন সাড়া দেয় না। কোনো কিছুতে আনন্দ খুঁজতে গেলে তারা আরো বিষণ্ন হয়ে পড়ে কেননা তারা মানুষের চাহিদা অনুযায়ী আচরণ করতে চায়, কিন্তু পারে না।’

আপনার সন্তান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কান্নাকাটি করে: আবেগ প্রকাশ করার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে কান্না। কিন্তু আপনার সন্তান স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার পর যদি নিয়মিত অখুশি থাকে বা কান্নাকাটি করে তাহলে বিষয়টি একটু ঘেটে দেখুন। আপনার সন্দেহ হলে সেটি সমাধানের চেষ্টা করুন। নেহায়েত হরমোনের সমস্যা বলে সেটিকে উড়িয়ে দেবেন না। ড. কিসেন বলেন, ‘আপনার সন্তানের যেসকল আচরণের দিকে খেয়াল রাখবেন সেগুলো হলো, সে যেকোনো কাজে অনীহা প্রকাশ করছে এবং আগে যা করে আনন্দ পেত; এখন আর সেসবে সে আনন্দ পাচ্ছে না। আপনার সন্দেহ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।’

আপনার সন্তান মানসিক সান্ত্বনা চায় না: কোনো কারণে দুঃখ পেলে মানুষ সাধারণত কারো কাছ থকে সান্ত্বনা আশা করে। কিন্তু বিষণ্নতায় ভোগা শিশু যেকোনো প্রকার সান্ত্বনাকে অগ্রাহ্য করবে, কেননা সে বিশ্বাস করে যে এতে কোনো কাজ হবে না। ড. ওয়াকাপ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘একজন স্বাভাবিক মানুষকে আপনি কোনো কারণে সান্ত্বনা দিলে তারা হয়তো আপনাকে ধন্যবাদ দেবে অথবা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে কিন্তু বিষণ্নতায় ভোগা কাউকে আপনি সান্ত্বনা দিতে গেলে পক্ষান্তরে তারা হবে বিরক্ত। তারা হয়তো আপনার মুখের উপর বলে দেবে, ‘আপনার সান্ত্বনা আমার দরকার নেই, আমি যেমন আছি তা থেকে বেরিয়ে আসতে আপনার সান্ত্বনা কাজে আসবে না।’ কেননা তাদের বিষণ্নতা বা মানসিক অবসাদ তাদের স্বাভাবিক আচরণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেয়।’

আপনার সন্তান প্রায়শই স্কুল নার্সের শরণাপন্ন হতে হয়: শরীরে ব্যথা, পেটব্যথা এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা অনেক গুরুতর আকারে দেখা দিতে পারে যদি আপনার সন্তান বিষণ্নতায় ভোগে। স্কুলে আপনার সন্তান যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় তাহলে সতর্ক হোন। ড. সিকুয়েল্যান্ড বলেন, ‘ডাক্তাররা সাধারণত অন্যান্যদের তুলনায় এসব শিশুদের একটু অগ্রাধিকার দেন, কেননা তারা বুঝতে চেষ্টা করেন যে শিশুটি মানসিক অবসাদগ্রস্ত বা বিষণ্ন কিনা।"

আপনার সন্তানকে উদাসীন মনে হয়: আপনার সন্তান আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলা এক ব্যাপার। কিন্তু যেকোনো কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, স্কুলে না যাওয়া বা বন্ধুদের সঙ্গে না মেশা বিষণ্নতার লক্ষণ। ড. কিসেনের মতে, ‘বিষণ্নতা বা মানসিক অবসাদ জীবনের অধিকাংশ ব্যাপারগুলোকে চাপা দিয়ে রাখে, যার ফলে আপনার সন্তানের জীবনের অনেক সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।’

আপনার সন্তানের নতুন খাদ্যাভ্যাস তৈরি হওয়া: খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতার অনেক বড় একটি লক্ষণ। যদি আপনার সন্তান হুট করে বেশি চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া শুরু করে বা আপনার তৈরি খাবারে তার আগ্রহ কমে যায় তবে বুঝবেন আপনার সন্তান মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত। বাচ্চারা বড় হওয়ার পাশাপাশি তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বড় ধরনের পরিবর্তন অবশ্যই মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতার লক্ষণ। ড. কিসেনের মতে, ‘আপনার সন্তানের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস হুট করে পাল্টে যাওয়া, যেমন: মাঝেমাঝে আপনার হাতের খাবার তার কাছে অতুলনীয় হয়ে ওঠে আবার মাঝে মাঝেই সে আপনার হাতের খাবার একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এগুলো আপনার সন্তানের চরম বিষণ্নতায় ভোগার লক্ষণ যেগুলোর পিছনে অনেক ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে।’

পারিবারিক ইতিহাস: ড. ওয়াকাপের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা বা মানসিক অবসাদের ব্যাপারটা পারিবারিক কোনো কারণ ছাড়াই তৈরি হয়ে যায়। আবার পারিবারিক ইতিহাস অর্থাৎ পরিবারে কেউ মানসিক অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি থাকলে সেই পরিবারে অন্য কারো এমন সমস্যা তৈরির সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আপনার পরিবারে এমন সমস্যা কারো থাকলে আপনার সন্তান ঝুঁকিতে রয়েছে। ড. ওয়াকাপ বলেন, ‘আপনার সন্তানের মধ্যে মানসিক অবসাদগ্রস্ততা দেখলে আপনার পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে খোঁজ নিন। কারো সন্তানের এমন সমস্যা দেখলে তাদেরও একই পরামর্শ প্রদান করুন।’

পড়ুন: যেসব লক্ষণে বুঝবেন সন্তান অবসাদে ভুগছে (প্রথম পর্ব)

রাইজিংবিডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়