RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১২ ১৪২৭ ||  ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আতশবাজির আলো কতটা ভালো? 

শেখ আনোয়ার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৭, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০  
আতশবাজির আলো কতটা ভালো? 

প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর রাতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে ঘিরে আতশবাজির প্রচলন রয়েছে। নতুন বছর উদযাপনকে ঘিরে শিশু-কিশোরসহ সবাই আনন্দে মাতোয়ারা হয়। এই আতশবাজি আসলে কী? এর আলো কতটা ভালো চলুন জেনে নেই।

আতশবাজি কেমন করে এলো?

আতশবাজির প্রচলন অনেক আগে থেকেই রয়েছে। প্রায় দু’হাজার বছর আগে চীন দেশে হ্যান রাজবংশ রাজত্ব করতো। সেসময় তাদের ধারণা ছিল- অনাবৃষ্টি, মহামারি, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয় অপদেবতাদের অপকর্মের ফলে। তারা ওসব শয়তানদের ভয় দেখাবার উদ্দেশ্যে আতশবাজি ব্যবহার করতো। নানারকম পটকা ফোটাতো। এই বিশ্বাস বহুকাল ধরেই প্রচলিত ছিল। ইতিহাসের পাতায় আরো দেখা যায়, ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের আমলে, পনেরশ বাহাত্তর সালে, ওভারভিচ শহরে আতশবাজি পোড়ানোর উৎসব হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে, পঞ্চদশ লুইয়ের উৎসাহে এবং পৃষ্ঠপোষকতায়, ফরাসি দেশেও আতশবাজির মাধ্যমে নানারকম উৎসব অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

আতশবাজি তৈরির কলা-কৌশল প্রথম দিকে গোপন রাখা হতো। সে যুগে এই বিদ্যা ছিল সম্পূর্ণরূপে পরিবারকেন্দ্রিক। বাবা শিখিয়ে দিতো ছেলেকে, ছেলে শেখাত তার ছেলেকে। এভাবে এই বিদ্যা বংশ পরম্পরায় প্রবাহিত হতো। এজন্য প্রতিটি পরিবারের আতশবাজির বৈশিষ্ট্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তবে এ ব্যাপারে রোমের রুঞ্জিয়ারী পরিবারের খুব সুনাম ছিল এবং প্রায় দেড়শ বছর ধরে তারা এই সুনামের অধিকারী হয়েছিলেন। সতেরশ ঊনপঞ্চাশ সালে শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি উৎসব উপলক্ষ্যে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে আতশবাজি পোড়ানো হয়। এজন্য তখন ইতালি থেকে লন্ডনে এসেছিলেন বেশ কয়েকজন বাজি-বিশেষজ্ঞ। তারপর ইংল্যান্ডের ব্রুক পরিবারের অনুপ্রেরণায় অনেকেই আতশবাজি তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করতে থাকে। আঠারশ পয়ষট্টি সালে, চার্লস টমাস ব্রুক লন্ডন শহরের ক্রিস্ট্যাল প্রাসাদে আতশবাজির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন।

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আনন্দ-উৎসবে নানারকম আতশবাজি পোড়ানো হয়। সম্ভবত ছয়শ পয়ত্রিশ সালে, হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা আতশবাজি তৈরির কলাকৌশল চীন থেকে বঙ্গদেশে আমদানী করেন। শোনা যায়, সতেরশ তিরাশি সালে, টিপু সুলতান ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করার সময় খবর পাঠানোর উদ্দেশ্যে, সংকেত হিসেবে, আতশবাজি ব্যবহার করেছিলেন।

আতশবাজি কেন ক্ষতিকর?

আতবাজি-পটকাতে জ্বালানী হিসেবে কার্বন ও সালফার ব্যবহৃত হয়। এগুলো পুড়ে গেলে, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাস উৎপন্ন হয়। এগুলো স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এতে সুস্থিত কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন উৎপন্ন হয়। এর ফলে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন করার ক্ষমতা বিনষ্ট হয়। তাছাড়া এজন্য মাথাধরা, ক্লান্তি ভাব এবং আরও নানারকম উপসর্গ দেখা দেয়। সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস, শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া এই গ্যাস বাতাসে থাকলে, তা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে তৈরি করে সালফিউরাস ও সালফিউরিক অ্যাসিড। এসব অ্যাসিড ত্বকের ক্ষতিসাধন করে।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে, বাজি-পটকা থেকে উৎপন্ন লেড বা সিসার অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় রক্তশূন্যতা, দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অসাড়তা প্রভৃতি রোগ হতে পারে। বলা বাহুল্য, আতশবাজি-পটকা থেকে নির্গত ধোঁয়ার সঙ্গে এসব পদার্থ প্রথমে ফুসফুসে যায়। তারপর রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। তখন নানা রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

লেখক: বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়