RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৬ ১৪২৭ ||  ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সরকার দায়িত্বশীল ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে: নৌপ্রতিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৯, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:২৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
সরকার দায়িত্বশীল ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে: নৌপ্রতিমন্ত্রী

দেশের গণমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।  তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্বশীল ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য সুখবর হচ্ছে, গণমাধ্যম এখন আর মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস লিখেনা।  তবে এর জন্য দায়ী ছিল অতীতের সরকারগুলো।  গণমাধ্যমকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে তারা বাধ্য করেছিল। 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের বিরল প্রেসক্লাবের পাঁচতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।  অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের স্থায়ী জমির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হয়।

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি হল গণমাধ্যম।  স্বাধীন গণমাধ্যম না হলে গণতন্ত্র মজবুত হয় না।  গণমাধ্যমের ওপর প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস আছে।  অনেক সময় গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করলেও তিনি সে সমালোচনা গ্রহণ করেন।  সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনাকে তিনি সব সময় উৎসাহ যোগান।

‘আমরা চাই বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করুক।  গত দশ বছরে আপনারা দেখেছেন গণমাধ্যম কী উন্মুক্তভাবে কাজ করেছে।  উন্মুক্তভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার অর্থ এই নয় যে, নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং ইতিহাসের অপব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা। স্বাধীনতা মানে এই নয়; লাগামহীন কথাবার্তা ও লেখালেখি করতে পারব, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আরেকজনকে ক্ষতিগ্রস্ত করব, আরেক জনের চলার পথ কঠিন করে তুলব।  স্বাধীনতা হচ্ছে সেটাই, যেটা মানুষকে আরো অর্থবহ করে তোলে।  সমৃদ্ধ করে তোলে। ’

অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বিকৃত সমালোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যদিও এসব কর্মকাণ্ড গণমাধ্যম নীতিমালার মধ্যে পড়ে না।  তারপরও এটা আমরা জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।  আমরা মনে করি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে জনগণ। জনগণ বিচার করবে এদেশের মঙ্গলের জন্য কারা কাজ করছে।  কারা অমঙ্গলের জন্য কাজ করছে।

গণমাধ্যম বিকাশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ক্যানভাস অনেক বড় হয়েছে। বেসরকারি খাতে গণমাধ্যমকে দেওয়া হয়েছে।  বিশেষ করে বেসরকারি টিভি চ্যানেল।  অনলাইন সংবাদমাধ্যমের নীতিমালা হচ্ছে। এটা একটা মাইলফলক।  অনলাইন গণমাধ্যমগুলো নীতিমালাহীন অবস্থায় ছিল।  আজকে এগুলো নীতিমালার মধ্যে চলে আসছে।

বিএনপি দেশের গণমাধ্যমকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যাবহার করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী প্রথম বেসরকারি খাতে টেলিভিশন দিয়েছিলেন।  মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা সাংবাদিক সায়মন ড্রিং সে একুশে টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালের পর খালেদা জিয়া ইটিভি বন্ধ করে দেয়।  সায়মন ড্রিংকে বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেছিল। পাশাপাশি সে সময়ে কিছু টেলিভিশন দেওয়া  হয়েছিল যেগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত ধারার এবং গণমানুষের বিপরীতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উসকে দিত।  এ ধরনের গণমাধ্যম বাংলাদেশের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগর, সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ লতিফ, বিরল প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সামু প্রমুখ। 

এদিন, নৌপ্রতিমন্ত্রী নির্বাচনী এলাকার পুলহাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন, বিরল উপজেলা কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের উদ্বোধন করেন। দেওয়ানজীদিঘী দাখিল মাদ্রাসার চারতলা একাডেমিক ভবন, ভান্ডারা ইউনিয়ন তহসিল অফিস ও বালান্দোর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পারভেজ/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়