ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

রাজশাহীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৪

রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ২ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১৯:১৯, ২ অক্টোবর ২০২২
রাজশাহীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৪

সাংবাদিকদের অবস্থান

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার তানজিমুল হকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিক নামে হারবাল কোম্পানির মূল ফটকের সামনে হামলা হয়। 

এ সময় তানজিমুলের প্রাইভেটকারও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— কারখানার মালিক সাঈদ বিশ্বাস (৪২), তার বোনের স্বামী দুরুল হুদা (৬৫), তুষার (২৮), হিমেল (৩০) এবং বাদল (৩২)। এ ছাড়া আরও ১২ থেকে ১৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

পরে অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাঈদ বিশ্বাস ছাড়া এজাহারভুক্ত বাকি সকল আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক তানজিমুল হক সকালে পেশাগত দায়িত্বপালনের উদ্দেশে প্রাইভেটকার নিয়ে নিজের বাসা থেকে বের হন। মহানগরীর হড়গ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় তার বাসা থেকে একটু সামনে বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিক নামে হারবাল কোম্পানির মূল ফটকের সামনে পিকআপ দাঁড়িয়ে থাকায় তার গাড়িটি আটকে যায়। এ সময় রাস্তা আটকিয়ে না রেখে পিকআপটি সরানোর অনুরোধ করলে হারবাল কোম্পানির মালিক সাঈদ বিশ্বাস ও তার বোনের স্বামী দুরুল হুদা ক্ষিপ্ত হন এবং গালাগালি শুরু করেন।

সাংবাদিক তানজিমুল হক এ সময় তাদের ঘণবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানা স্থাপনের প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া তিনি রাস্তার ওপরে পিকআপ ট্রাক না রাখার অনুরোধ করেন। ছোট পরিসরের রাস্তায় মালামাল উঠানামা করায় মহল্লার লোকজনের যাতায়াতের সমস্যা হয় এবং তারা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন বলে জানান। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হারবাল কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে তানজিমুলের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা তানজিমুলকে মারধর করেন এবং তার প্রাইভেটকার ভাঙচুর করেন।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, তানজিমুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ ওই হারবাল কারখানায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা বায়োহার্বস আয়ুর্বেদিক নামের ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেন। প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে আবাসিক এলাকায় ওষুধ উৎপাদন করছে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান। এ সময় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানটির ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং অবৈধভাবে উৎপাদিত বেশকিছু ওষুধ জব্দের পর ধ্বংস করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ এ অভিযান চালান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম আলী। হাসান-আল-মারুফ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি একাধিক ওষুধ তৈরি করছে যার অনেকগুলো তৈরির অনুমোদন নেই। এ কারণে তাদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ওষুধগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম আলী বলেন, এখানে চারটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদনের মেয়াদ মার্চ মাস পর্যন্ত ছিল। এরপর সেটি নবায়ন করেনি। তবে তারা আবেদন করেছেন। কিন্তু অনুমোদন না থাকলেও তারা ওষুধ উৎপাদন করে আসছেন। এছাড়াও সেখানে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কেমিস্ট পাওয়া যায়নি। একজনকে নিয়োগ দেখানো হলেও তিনি ঢাকায় থাকেন। কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওষুধ তৈরি করা হচ্ছিল।

এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। 

কেয়া/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়