ঢাকা     রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৫ ১৪২৭ ||  ০১ সফর ১৪৪২

আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রীর চোখে জল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৯, ১০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রীর চোখে জল

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক ক্ষণে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা হলেও দূর হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ওই দিন সেখানে না থাকতে পারলেও ৪৮ বছর পর সেই চিত্র যেন ফিরে এসেছে তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে। এবার তার স্বাক্ষী হলেন প্রধানমন্ত্রী। এই আবহ ছুঁয়েছে তাকে। আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রীর চোখে ঝরেছে অশ্রু।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধন উপলক্ষে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়। ওই দিন যেভাবে যুক্তরাজ্যের একটি রাজসিক বিমানে তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন, সেভাবেই একই ধরনের একটি বিমান আজ পুরাতন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। লেজার রশ্মির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি। বিমানের চারপাশ ঘিরে স্লোগান দেন উত্তাল জনতা। এ যেন সেই দিনে ফিরে যাওয়া!

এই চিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। অশ্রুসজল হয়ে ওঠে তার চোখ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরেক মেয়ে শেখ রেহানা এবং তার দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন। তারাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত সবাই।

পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই আয়োজন আমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, সেই ১০ জানুয়ারি যেভাবে তিনি বিমান থেকে নেমেছিলেন। আমরা তাকে পাইনি। কিন্তু তিনি যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, স্বাধীনতার যে মন্ত্র আমাদের শুনিয়েছিলেন, যে আলোর মশাল হাতে তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করবার, তারই একটি রেপ্লিকা হিসেবে তার আগমনকে আমরা এই আলোর মধ্য দিয়েই ফুটিয়ে তুলেছি। সেদিন যেভাবে তার জন্য ২১টি গান স্যালুট দেয়া হয়েছিল, যেভাবে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়া হয়েছিল, তারই একটি অনুশীলন আমরা এখানে করেছি। এই কাজের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। সেই দিন আমরা এয়ারপোর্টে আসতে পারিনি। কারণ, আমার বাচ্চা অনেক ছোট ছিল। আমরা এমন অবস্থায় ছিলাম...। কিন্তু আমার মনে পড়ে- আমার মা সর্বক্ষণ একটা রেডিও নিয়ে বসেছিলেন। ধারাবাহিক বিবরণ শুনছিলেন। আমরা পাশে বসে সেই ধারাবাহিক বিবরণ শুনছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে পড়ে, তিনি কিন্তু বাংলার মাটিতে নেমে আমাদের কথা ভাবেননি। পরিবারের কথা ভাবেননি। তিনি চলে গিয়েছিলেন রেসকোর্স ময়দানে প্রিয় জনগণের কাছে। প্রিয় মানুষগুলোর কাছে তিনি সর্বপ্রথম পৌঁছে যান। তারপর আমরা তাকে পাই। তিনি এ দেশের মানুষকে ভালোবেসেছিলেন। চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ সুন্দর জীবন পাবে।’

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র‌্যমুক্ত করার স্বপ্নের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে বিজয়ের আলোকবর্তিকা তিনি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, সে মশাল নিয়েই আমরা আগামী দিনে চলতে চাই। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র‌্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই।’

‘এই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে সম্মানের সঙ্গে চলবে। মাঝখানে একটা কালো অধ্যায় আমাদের জীবন থেকে চলে গেছে। সেই কালো অধ্যায় যেন আর কোনোদিন আমাদের দেশের মানুষের ওপর ছায়া ফেলতে না পারে। আমাদের দেশের মানুষ যেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলে এই বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারের মর্যাদার আসনে বিশ্ব দরবারের অধিষ্ঠিত করতে পারে, আজকের দিনে সেই কামনা করি।’

বক্তব্য শেষে ল্যাপটপের বাটন টিপে মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন ও ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যখন ক্ষণগণনা উদ্বোধন করা হয়, তখন সময় বাকি ছিল ৬৬ দিন ৬ ঘণ্টা ৪১ মিনিট। এর মাধ্যমে সারা দেশে বসানো ঘড়িগুলোতে একযোগে ক্ষণগণনা শুরু হয়।


ঢাকা/পারভেজ/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়