ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আর কত ঘুরাইবেন’

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৬ ৮:৪২:৩৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৭ ১২:১৩:৩৯ পিএম

হাসিবুল ইসলাম মিথুন : ‘ভাই আইডি কার্ড যদি দেন তাহলে দয়া কইরা এইভাবে ঘুরাইয়েন না। আর ভালো লাগে না এভাবে ঘুরতে। এই অফিস থেকে ওই অফিস, আর কত ঘুরাইবেন বলেন? এই চাইর মাস ধইরা ঘুরতাছি’। এভাবেই দুঃখের কথা বলছিলেন রহিমা বেগম।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে এভাবে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

রহিমা বেগম থাকেন রাজধানীর উত্তরায়। প্রায় চার মাস আগে তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য থানা নির্বাচন অফিস থেকে শুরু করে প্রধান নির্বাচন অফিসে গিয়েছেন। শুধু তার একার নয়, সঙ্গে তার ছেলে কবির হোসেনেরও আইডি সংশোধন করতে হবে।

রহিমা বেগম বলেন, ‘কথা বইলা আর কি হইবো? কার্ড কি আইনা দিতে পারবেন? তাইলে দেন। ঘুরতে ঘুরতে আর কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না আমার।’

তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রায় চার মাস আগে উত্তরা থানা নির্বাচন অফিসে আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য যাই, নামের ভুল সংশোধনের জন্য। সেখান থেকে আমাকে বলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে। আমি জমা দেই। কবে হবে জানতে চাইলে বলে হয়ে যাবে সময় লাগবে। একমাস পরে আবারো আমি সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম, আইডি কার্ডের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেখান থেকে নাকি হবে না। আগারগাঁও আসতে হবে। আমিও তাদের কথা মতো আগারগাঁও আসি কিন্তু এখানে আসার পরে বলে থানা নির্বাচন অফিসে যেতে। এখানে নাকি সংশোধন করা হয় না। যার যার এলাকার নির্বাচন অফিসে সংশোধন করতে হবে। পরে আমি আবারো আদাবর যাই। কিন্তু সেখানে গেলে আবারো বলে আপনার কাগজপত্র ঠিক নেই। স্কুল সার্টিফিকেট লাগবে।’

 

তিনি বলেন, আমিতো লেখাপড়া তেমন করি নাই। সার্টিফিকেট কোথায় পাব। এই কথা আমি বলছি পরে বলছে দেখি কি করা যায়। আমিও চলে আসি। এভাবে আমি অনেকবার অফিসে গেছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে আবারো আগারগাঁও আসছি।

রহিমা বেগমের ছেলে কবির হোসেন বলেন, ‘আমি একটি চাকরির  জন্য অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছি। কিন্তু ভোটার আইডি কার্ডে আমার জন্মসাল ভুলের কারণে সমস্যায় পড়েছি। এখন খুব তাড়াতাড়ি এটা সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছি। তিন মাস হয়ে যাওয়ার পরও এখনো কিছুই হয়নি। উত্তরা থেকে আগারগাঁও আবার আগারগাঁও থেকে উত্তরা ঘুরে বেড়াচ্ছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’

উত্তরা থানা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমার এখানে এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি জানিনা রহিমা বেগম কেন এমন অভিযোগ করেছেন। সত্যি বলতে এমন ঘটনা আমার নলেজে আসেনি। যদি আমার এখান থেকে কেউ রহিমা বেগমকে আগারগাঁওয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েও থাকে তাহলে আমি ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের জন্য এসে দালালদের খপ্পড়ে পড়ে। দালালরা টাকা খেয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে কিন্তু জনগণ সেটা বুঝতে পারছেন না। আবার বুঝেও অনেকে দালালদের কাছেই যান তাড়াতাড়ি কাজের আশায়। কিন্তু আমার এখানে দালাল দিয়ে কোনো কাজ হয় না।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ জুলাই ২০১৯/হাসিবুল/সাজেদ/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন