ঢাকা     মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৭ ১৪২৭ ||  ০৪ সফর ১৪৪২

‘নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনই জাতির পিতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা’

এম এ রহমান মাসুম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩২, ১৫ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
‘নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনই জাতির পিতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা’

নিজস্ব প্রতিবেদক : দু্র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, প্রতিটি অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে সকল প্রকার লোভ-লালসাকে জলাঞ্জলি দিয়ে নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এ নির্মোহ দায়িত্ব্ পালনে আমাদের কোনো ভাই-বন্ধু বা স্বজন নেই, আমরা কাউকেই চিনি না। এমনটি হলেই জাতির পিতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয়  শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন দুদকের চেয়ারম্যান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, প্রতি বছরই জাতির পিতার মহাপ্রয়াণ দিবসে আমরা আলোচনা সভা করি, কবিতা আবৃত্তি হয়, তথ্যচিত্র দেখি, আমরা শপথ গ্রহণ করি এবং কেন যেন মনে হয় কেউ কেউ শপথ ভঙ্গও করি।  শপথ যদি ভঙ্গ না হয়, তাহলে স্ব স্ব দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার কথা, আমাদের সকলের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়ার কথা, তা তো সেভাবে অনুধাবন করা যাচ্ছে না। মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে আপনারা বলুন, আপনাদের দায়িত্ব কি সঠিকভাবে পালন করছেন? এ ব্যাপারে আমার বেশ সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যদি স্ব স্ব বিভাজিত কর্ম সুচারুভাবে পালন না করে শুধু মিটিং-সিটিংয়ে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখি তা হলে এসব আনুষ্ঠানিকতা হবে অর্থহীন।  জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের কোনো বিকল্প নেই।  নিজেকে নিজেই আবিষ্কার করুন।  নিজের মানসিকতা নিজেকেই পরিবর্তন করতে হয়। আইন করা হয় তা মান্য করার জন্য, এনফোর্সমেন্ট হয়তো তা মান্য করতে সাহায্য করে।

দুদকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সংস্থাটির প্রধান বলেন, প্রতিটি অনুসন্ধান বা তদন্ত সকল প্রকার লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে  মোহমুক্ত থেকে করেন কি না? এর উত্তর আমি প্রত্যাশা করব, ‘হ্যাঁ’। তবে সমাজের অনেকেই উত্তর দেবেন, ‘না’।  এটা করার জন্য আমাদেরকে সকল প্রকার চাপ- তা রাজনৈতিক হতে পারে, সামাজিক হতে পারে, পেশাগত হতে পারে, এসবের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। জীবনের ক্রান্তিলগ্নে এসে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, অর্থ-বিত্ত-বৈভব জীবনে শান্তি বা স্বস্তি দেয় না, বরং বিশ্বাস অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা গেলে জীবনে শান্তি ও স্বস্তি দুটোই পাওয়া যায়।

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, আমি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেই বলেছিলাম, প্রতিটি অভিযোগ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্য থেকেই নিষ্পত্তি করতে হবে। তারপর অনেকেই সময়ের স্বল্পতার কথা বললেন। আমরা বিধি পরিবর্তন করে সময় বাড়িয়ে দিয়েছি। তারপরও নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না কেন? এই টাইমলাইন না মানার কারণেই তদবিরবাজি হয়, ঘুষখোররা ঘুষ খাওয়ার সাহস পায় এবং সর্বোপরি কমিশনের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, নিজেকে পরিবর্তন করুন। পরিবর্তন ব্যক্তি থেকে শুরু হয়ে গোষ্ঠী হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ঘটায়। পেছনের দিকে না তাকিয়ে, আসুন সামনের দিকে আগাই। সততা ও স্বচ্ছতার সাথে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করি।

দুদকের কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, বঙ্গবন্ধু স্রষ্টার এক বিস্ময়কর সৃষ্টি, যিনি মাত্র ৫৫ বছরের জীবনে কোটি কোটি মানব হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার খুনিরা যেভাবে অপঘাতে ঘৃণিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তেমনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরও একই পরিণতি হয়েছে। যারা এখনো বেঁচে আছে তারা দুর্বিষহ জীবনযন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত, মহাপিরচালক এ কে এম সোহেল, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও মো. আক্তার হোসেন প্রমুখ।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ আগস্ট ২০১৯/এম এ রহমান/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়