ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নির্মাণ শ্রমিকদের সুরক্ষায় ‘শিরস্ত্রাণ’

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৬ ১০:১৬:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৭ ৮:১৭:৩৮ এএম

কর্মক্ষেত্রে নির্মাণ শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে সেন্সরযুক্ত একটি হেলমেট তৈরি করেছেন যাসিফ বিন ইসলাম। তাৎক্ষণিক কোনো বস্তুর আঘাত থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করতে এ হেলমেটটি কাজ করবে বলে দাবি যাসিফের। হেলমেটের নাম রাখা হয়েছে ‘শিরস্ত্রাণ’।

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯-এ যাসিফ তার ডিজাইন করা হেলমেটটি প্রদর্শন করেছেন। তার দাবি, হেলমেটে থাকা সেন্সর আশপাশ থেকে আসা কোনো বস্তু সম্পর্কে আলো, শব্দ ও কম্পনের মাধ্যমে শ্রমিককে জানিয়ে দেবে। হেলমেটটি মাথায় থাকলে এক শ্রমিক অন্য শ্রমিকের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া কোন শ্রমিক কত সময় কাজ করেছেন তারও তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবে।

যাসিফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সে শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফিউচার ইনভেনশন সায়েন্স ক্লাব নামে একটি সংগঠনের সভাপতি। সে এবং তার সহপাঠী মিলে এ সংগঠন পরিচালনা করছেন। সেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে নিজেরাই গবেষণা ও উদ্ভাবন করেন।

হেলমেট প্রসঙ্গে যাসিফ বিন ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, হেলমেটের চারপাশে আল্ট্রা সনিক সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো পাশ থেকে আসা কোনো অবজেক্ট বা বস্তুকে এটি চিহ্নিত করতে পারে। এটি করতে তার সময় লাগে দশমিক শূন্য এক সেকেন্ড। এই সময়ের মধ্যেই হেলমেট শ্রমিককে বার্তা পাঠানো শুরু করবে। বার্তা হিসেবে চোখের সামনে আলো প্রদর্শন করবে। এছাড়া শব্দ ও কম্পন করবে।

যাসিফ বলেন, কোনো বস্তু উপর থেকে পড়তে কমপক্ষে পাঁচ সেকেন্ড সময় লাগে। ওই সময়ে একজন শ্রমিক নিজেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে পারবেন। যদি তিনি আগেই জানতে পারেন।

‘শিরস্ত্রাণ’ তৈরিতে মাঠ পর্যায়ের কাজ হিসেবে যাসিফ জানান, তিনি কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালিয়ে দেখেছেন। সেখানে তিনি সফলতা পেয়েছেন। এখন তিনি এটি চাহিদার ভিত্তিতে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে প্রস্তুত। তবে এর আগে এটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ করবেন।

‘শিরস্ত্রাণে’ ওয়াকিটকির মতো ওয়ারল্যাস যোগাযোগ ব্যবস্থা সংযোগ দেওয়া হবে। এর ফলে কোনো মালামাল আনতে বা অর্ডার করতে শ্রমিককে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হবে না। মনে করুন একজন শ্রমিক ইট বসাচ্ছেন, এখন ইটের প্রয়োজন। তখন তিনি ‘এক্স বা ওয়াই’ শ্রমিককে উদ্দেশ্য করে বলেবেন ইট লাগবে। তখন ওই শ্রমিক ইট এনে দেবে। এতে একজন শ্রমিকের পরিশ্রম কমবে ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগে সমন্বয় হবে।


ঢাকা/নূর/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন