ঢাকা, রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রতিটি শিশু সুন্দর জীবন পাবে: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৮ ৭:৩২:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৯ ১:১৪:৩৬ পিএম

শিশুদের জন্য সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রত্যেকটা শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয় এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, আমাদের প্রতিটি শিশু লেখা-পড়া শিখবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দর জীবন পাবে।

তিনি বলেন, কোনো কিছুতেই যেন মানুষ হত্যার শিকার না হয়। প্রত্যেকটা শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। শিশুদের ওপর অন্যায় অবিচার কখনও বরদাস্ত করা হবে না। যারা শিশু হত্যা করবে তাদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ’।

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা সমাজের খারাপ দিক থেকে দূরে থাকবে। যেমন মাদকসহ নানা ধরনের অপকর্মে যেন শিশুরা না জড়ায়। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে।

‘সততার সঙ্গে জীবনযাপন করা। কারো একটা গাড়ি আছে বলে আমারও লাগবে, কারো একটা দামি কাপড় আছে বলে আমারও লাগবে; এই চিন্তাটা যেন মনে না আসে। নিজেকে কখনও ছোট মনে করবে না, এটা আমার অনুরোধ থাকবে।’

ছোট ভাই রাসেলের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে ছিলেন রাসেল তখন আব্বা বলে কান্না করতো। এজন্য মা বলেছিলেন, আমাকেই আব্বা বলে ডাক। জেল খানায় গিয়ে সে একবার আব্বার দিকে তাকাত, একবার মায়ের দিকে তাকাত। একটা ছোট্ট শিশু পিতার স্নেহ বঞ্চিত ছিল। আমরা তো বঞ্চিত ছিলামই।

‘১৯৬৯ সালে যখন তথাকথিত আগরতলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে এদেশের মানুষ মুক্ত করে নিয়ে আসল, তখন রাসেল বাবাকে বাড়িতে পেল। তখন একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করতাম সে খেলার ছলে কিছুক্ষণ পরপর আব্বা কোথায় আছেন দেখতে আসতো।  ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের সকলকেই গ্রেপ্তার করে ১৮ নম্বর ধানমন্ডির একটি বাড়িতে নিয়ে রাখা হলো। রাসেল খুব চাপা স্বভাবের ছিল। সহসা নিজে কিছু বলতো না। তার চোখে পানি দেখে যদি বলতাম, তোমার চোখে পানি কেন? বলতো চোখে যেন কি পরেছে। এইটুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত লুকিয়ে রাখতো।’

শিশু হত্যাকারীদের কঠোর সাজা পেতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব শিশুর মধ্যে একটা সুপ্ত চেতনা রয়েছে। মনন রয়েছে, তা বিকশিত করে গড়ে তুলতে হবে।

‘আমরা কিছু দিন থেকে দেখছি, শিশুদের ওপর অমানবিক অত্যাচার। সমাজে যে এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটছে। সে সময় যদি (১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট) শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারীদের বিচার হতো, তাহলে মানুষের ভেতরে একটা ভয় থাকতো। খুনের মানসিকতা গড়ে উঠতো না’, বলেন তিনি।

প্রতিবন্ধী শিশুদের অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা শিশু আছে, তাদের বলব, তোমাদের আশে পাশে যারা প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র আছে, তাদের কখনও অবহেলা করো না। তাদের আপন করে নিও। তাদের পাশে থেকো। সহযোগিতা করো। কারণ তারাও তো তোমাদের মতই শিশু। ছোটবেলায় পড়েছি, কানাকে কানা বলিও না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না। আসলে এটা বলা নিষ্ঠুরতা ও অমানবিতা। আমাদের শিশুরা নিশ্চয়ই তা করবে না।


ঢাকা/পারভেজ/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন