ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কটূক্তির অপরাধে মৃত্যুদণ্ড আইন না করলে আন্দোলন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২২ ৬:০৩:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২২ ৬:১৭:১৮ পিএম

আল্লাহ ও মহানবী (সা.) নিয়ে কটূক্তির অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড আইন না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা।

সরকারকে হুমকি দিয়ে হেফজাতে ইসলামের ঢাকা মহানগর আমির আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী বলেন, ‘একটি আইন করতে হবে, যে আইনে আল্লাহ তায়ালা ও নবী-রাসূলগণের কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। এই আইন না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের আন্দোলন চলবে। যদি দোষীদের শাস্তি না হয়, তাহলে আমরা বসে থাকব না, আঙুল চুষব না।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ হুমকি দেয়া হয়। ভোলায় মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর আমির আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী।

তিনি আরো বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম শান্তিতে বিশ্বাসী, সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমরা দেশের শান্তি রক্ষা করতে চাই। তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবো কিন্তু কোনোভাবেই আল্লাহর হাবিবের সাথে করা বেয়াদবি মেনে নেয়া হবে না। সরকার আল্লাহর হাবিবের সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।’

সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন কাসেমী। সেগুলো হলো- ভোলায় পুলিশের মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অবিলম্বে মুক্তি, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও ভোলার এসপিকে প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশ থেকে ইস্কনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সম্মান অনেক বেশি। যদি সম্মান রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে আপনাদের গদিতে আগুন দেয়া হবে। দোষীদের শাস্তি না হলে আমরা আবারও শাপলা চত্বরে যাব।’

হেফাজত নেতা জাফরুল্লাহ খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, যতই ভালো কাজ করেন, আল্লাহর নবী-রাসূলের সম্মান রক্ষা না করতে পারলে আপনার পতন অনিবার্য হয়ে যাবে। এছাড়া আইডি হ্যাকের বিষয়ে আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।’

হেফাজত ঢাকা মহানগর নেতা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘নবীপ্রেমিকদের ওপর অত্যাচারে প্রথম নয়। যারা আমার এই ভাইদের মেরেছে, তাদের বিচার যদি না হয়, তাহলে আরেকটি শাপলা চত্বরের মতো ঘটনা ঘটবে।

হেফাজত নেতা ঈসা শাহেদী  বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, হিন্দুধর্মের যে ছেলেটির পোস্ট দিয়েছে, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। আমরা বলতে চাই প্রধানমন্ত্রী আপনি অবিলম্বে আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করুন। তা না হলে আমরা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব পালনের সর্বদা প্রস্তুত আছি।’

এসময় বক্তব্য রাখেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, শেখ গোলাম আসগর, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) কটূক্তির অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ মসজিদ চত্বরে তৌহিদি জনতার ব্যানারে গত রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টার মধ্যেই সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হলে পরে আসা লোকজন মোনাজাত পরিচালনাকারী দুই ইমামের ওপর চড়াও হন। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসী। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন।


ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন