ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ন‌্যামে বৈশ্বিক বিরোধ নিরসনে আলোকপাত করবেন প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৩ ৮:৪৪:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২৩ ৮:৪৪:২৫ পিএম

আগামী ২৫ থেকে ২৬ অক্টোবর আজারবাইজানের বাকুতে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বৈশ্বিক বিরোধ নিরসনে আলোকপাত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ন্যামের গুরুত্ব এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ন্যামকে শক্তিশালীকরণের মত বিষয়গুলোও তুলে ধরবেন।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ২৪ অক্টোবর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে পৌঁছাবেন। এবারের ন্যাম সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো- “NAM Baku Summit : Upholding the Bandung Principles to ensure concerted and adequate response to the challenges of contemporary world”।

জানা গেছে, এবারের ন্যাম সম্মেলনে ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত বান্দুং সম্মেলনের নীতি সমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে যার ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ন্যাম প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই সম্মেলনে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় ন্যামের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়টির উপর আলোকপাত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে ন্যাম-এর সদস্য পদ লাভ করে। সে বছরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ন্যামের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। ন্যাম সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বিশ্বব্যপী নির্যাতিত ও শোষিত মানুষের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যক্ত করে একটি শান্তিপূর্ণ ও শোষণমুক্ত পৃথিবী নির্মাণে ন্যামের সদস্য রাষ্ট্র সমূহকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যুতে ন্যাম-এর সদস্য দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে চলছে।

বাংলাদেশ ন্যাম-এর সকল উচ্চ পর্যায়ের সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে মিশরের শারম-আল-শেখ-এ অনুষ্ঠিত ন্যাম-এর ১৫-তম শীর্ষ সম্মেলনে ও ২০১২ সালে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত ন্যাম-এর ১৬-তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে সকলের সাথে বন্ধুত্বের যে আদর্শ বাংলাদেশ ধারণ করে, তা ন্যামের আদর্শের অনুরূপ। এ ছাড়াও বান্দুং সম্মেলনে গৃহীত পঞ্চশীল নীতি যথা: প্রতিটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত পরিহারপূর্বক অনাক্রমণ নীতি গ্রহণ, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা, পারস্পরিক সাম্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সকল সমস্যার সমাধান- এর সবই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ ন্যামে বরাবরই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে ‘NAM Caucus in the Peace building Commission’-এর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে।

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের নীতিগত দিক বিবেচনায় ন্যামের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ন্যামের গুরুত্ব, সকল বিরোধ নিরসন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ন্যামকে শক্তিশালীকরণের মত বিষয়সমূহের উপর আলোকপাত করবেন।

এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়নে সাউথ-সাউথ কো-অপারেশানের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সমূহ মোকাবেলা ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ন্যাম রাষ্ট্রসমূহের একযোগে কাজ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করবেন।

এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সাথে ন্যামভুক্ত অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

২৫-২৬ অক্টোবর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের সম্মেলনের পূর্বে ২৩-২৪ অক্টোবর ন্যামভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া, ২১-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ন্যামের সিনিয়র অফিসিয়াল সভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছে। 

ন্যামের ১৮-তম সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শান্তির প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে আমাদের অঙ্গীকার, ফিলিস্তিনি জনগণসহ বিশ্বব্যাপী শোষিত মানুষের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ন্যামের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের একযোগে কাজ করার বিষয়সমূহ তুলে সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ন্যামে সক্রিয় হয় এবং নীতিগত দিক হতে ন্যামের ধারণাটিকে সমর্থন করে এসেছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ন্যামকে অধিকতর কার্যকর করার বিষয়টি পুনরায় তুলে ধরবে যা ন্যামে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকাকে সুদৃঢ় করবে ও ন্যাম রাষ্ট্রসমূহের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিজের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


ঢাকা/হাসান/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন