ঢাকা, সোমবার, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘দুর্নীতি-সহিংসতা বাড়লে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজন হয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৯ ৩:২০:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৯ ৩:২০:১৭ পিএম

‘সব সাংবাদিকতাই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। কারণ, সব খবরই সন্ধান করে বের করতে হয়। তবে অনেক সংবাদ আছে যেগুলো প্রতিকূলতার মধ্যে বের করে আনতে হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভিত্তি খুবই নৈতিক। যখন দুর্নীতি-সহিংসতার মতো বিষয়গুলো বাড়ে, তখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজন হয়।’

সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ : প্রেক্ষিত গণমাধ্যম জবরদখল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন‌্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ন্যায়পাল অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৯’ দেয়া হয়।

অনলাইন গণমাধ্যমকে যারা প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন, তাদের উদ্দেশে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, অনলাইনকে কেন প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছি? এখন ডিজিটাইজেশনের যুগে সংবাদমাধ্যমে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। অনলাইন গণমাধ্যম বিকশিত হচ্ছে। সাংবাদিকতাকে অনেকে চাকরি হিসেবে নিচ্ছেন। পেশা হিসেবে নিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিতে এখন লজ্জা লাগে। ছাত্রনেতাদের ধমকে শিক্ষকরা ভয় পান। আগে শিক্ষক সমিতি কার্যকর ও শক্তিশালী ছিল। কোনো আন্দোলন হলে পরবর্তী কর্মসূচির জন্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ঘুর ঘুর করত। কিন্তু এখন শিক্ষকদের কোনো ভিত নেই।

টেলিভিশন সাংবাদিকদের সমালোচনা করে এ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যারা বিভিন্ন ইভেন্টে লাইভ করেন, তারা অনেক কষ্ট করেন। কিন্তু একসঙ্গে ১০টি বাংলা শব্দ বলা মনে হয় খুব কষ্টের? তখন, আসলে, কিন্তু, অ্যা, যেমনটা বলছিলাম, আপনি জানেন- এসব শব্দ বলতে বলতে তারা সময়ক্ষেপণ করেন। বাংলা ভাষার এত দুর্দিন আমি কখনো দেখিনি। অথচ বিদেশি সাংবাদিকদের দেখেন। তারা খুব অল্প সময়ে অনেকগুলো বিষয়ে কথা বলেন। টু দ্য পয়েন্টে কথা বলেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে একটি ভীতিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। টিকে থাকার জন্য অনেকে কম্প্রোমাইজ করছে। তবে বেসিক জায়গা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে না।

সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিক বলেন, সাংবাদিকতা এখন প্রচারযন্ত্র হয়ে গেছে। মাইক্রোফোনের মতো। কিন্তু এই সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বেশি হওয়ার কথা ছিল। সাংবাদিকদের যে চরিত্র ছিল, সেটা পরিবর্তন হয়েছে। নিজেদের সুখ, স্বাচ্ছদ্য, ভোগ-বিলাস নিশ্চিতের জন্য সাংবাদিকরা দৌড়াচ্ছেন। সাংবাদিক হিসেবে গণমানুষের কণ্ঠ হতে হবে, তা হতে চাই না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্বের অভাব ও স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। পোশাদারিত্ব না থাকায় গণমাধ্যম জনগণের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।

মার্কেট যাচাই না করেই মিডিয়া বাজারে আসছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে যেখানে পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের নতুন নতুন পত্রিকা বের হচ্ছে।

 

ঢাকা/নূর/রফিক