ঢাকা, বুধবার, ৮ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ট্রাক্টর নিয়ে অসহায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১২ ১০:৫৫:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১২ ১০:৫৫:১০ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কৃষক গনি মিয়া। ‘ট্রাক্টর নাই, ভাত নাই’ এমন শ্লোগানের ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে ছিলেন। কৃষি কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে মালামাল টেনে এই ট্রাক্টর দিয়েই সংসার চলে তার।

শুধু গনি মিয়া নন, তার সাথে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমেছিলেন মানববন্ধনে।

কৃষক গনি মিয়া জানান, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ট্রাক্টরগুলো জমিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। বাকি সময়ে খুব বেশি ব্যবহার হয় না। তখন সেগুলো দিয়ে মালামাল টানার কাজ করা হয়। কিছু পরিবহনের কাজও করা হয় ট্রাক্টর দিয়ে। মাঝে মধ্যে তেল নিতে তাকে শহরে যেতে হয়। এসময় জেলা সদরের সড়ক পার হতে হয়। এজন্য হয়রানির শিকার হতে হয়। এখন পরিস্থিতি এমন যে ট্রাক্টর ব্যবহার ও তা দিয়ে জমি চাষই বন্ধের উপক্রম।

এগ্রিকালচারাল ট্রাক্টর অ‌্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার ট্রাক্টর কার্যকরভাবে চালু রয়েছে। চলতি বছরে নতুন অনুষঙ্গ হিসাবে উত্তরাঞ্চলে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই চলতে দেওয়া হচ্ছে না ট্রাক্টর। ট্রাক্টর পুড়িয়ে দেবার ঘটনা, তেলের পাম্প থেকে তেল নিতে গেলে কিংবা কোনোভাবে সড়কে উঠলে আটক করা হচ্ছে ট্রাক্টর। বিক্রি বন্ধ থাকলে সরকারের যান্ত্রিকীকরণে চলমান ভর্তূতি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।

অ‌্যাসোসিয়েশনের মতে ট্রাক্টর মালিকদের এক বছরের মধ্যে ট্রাক্টরগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনা যেতে পারে। কীভাবে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের আরো সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ দিতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্ধগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘ট্রাক্টরগুলো মূলত কৃষি কাজের জন্য আমদানি করা হয়। এখন সেগুলো পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বালু উত্তোলনের কাজে বেশি ব্যবহৃত করা হয়। আমরা কৃষকদের মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করেছি। তাদের এটাও বলা হয়েছে, বালু উত্তোলন ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করলে আইন কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো ট্রাক্টর ধ্বংস করেছি। যেহেতু কৃষকরা ট্রাক্টরগুলো ঋণ নিয়ে কিনে থাকেন সেহেতু আমরাও চাই কৃষকরা ট্রাক্টরগুলো ব্যবহার করে তাদের পরিবার চালাক আর ঋণ থেকেও মুক্ত হোক। সেই দিক বিবেচনা করেই আমরা আইন প্রয়োগ করছি।’

এ বিষয়ে দি মেটাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাদিদ জামিল বলেন, ‘বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এ তিন মাসই ট্রাক্টর বিক্রির উপযুক্ত সময়। সারা দেশেই এখন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। উত্তরবঙ্গে কৃষকের সঙ্গে চলমান ঘটনায় এক ধরনের ভিতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ট্রাক্টর চালানোর ক্ষেত্রে জটিলতা থাকলে তা সময় দিয়ে দ্রুত সমাধান করতে হবে। চালকদের লাইসেন্সিং করা এবং গাড়িগুলোকে রেজিষ্ট্রেশন করার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে কৃষকের মনে আস্থাহীনতা তৈরি হবে। এতে যান্ত্রিকীকরণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কৃষি খাত বিপাকে পড়তে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও শতভাগ যান্ত্রিকীকরণের আওতায় আসেনি জমি চাষ। তাই চাষাবাদে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো ও মাটির গুণাগুণ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ট্রাক্টর। তাছাড়া শ্রমিক সংকট মেটাতেও কার্যকর ভূমিকা রয়েছে যন্ত্রটি। জমি তৈরি ছাড়াও কৃষি পণ‌্য পরিবহন ও বহুমূখী ব্যবহারে কৃষকের আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে ট্রাক্টর। কিন্তু কৃষকের এ ধরনের আতঙ্কে ট্রাক্টর ব্যবহার অকেনটাই বন্ধের উপক্রম।

জানা গেছে, দেশের বাজারে ট্রাক্টর সংযোজন, আমদানি ও বিপনন করছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দি মেটাল প্রাইভেট লিমিটেডের ট্যাফে, এসিআই মোটরসের সোনালিকা, র‌্যানকন ও কর্ণফূলী লিমিটেডের মাহিন্দ্র, মেটাল প্লাসের আইসার, পারফরমেন্স মোটরসের স্বরাজ, গেটকোর নিউ হল্যান্ড, ইফাদ অটোসের এসকর্ট ও এনার্জিপ্যাকের জন ডিয়ার ব্রান্ড।


ঢাকা/হাসিবুল/সনি