ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ মাঘ ১৪২৬, ২১ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

শতভাগ বিদ‌্যুতের আওতায় নতুন সাড়ে ৩ লাখ গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৩ ৬:২৬:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১৪ ৮:২৫:৪৯ এএম
ফাইল ফটো

বর্তমান সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ‌্যে নতুন করে আরো ৩ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহককে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। দেশের চারটি বিভাগে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের গ্রাহকরা এর আওতায় আসছে।

‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট) শীর্ষক চলমান প্রকল্পের আওতায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বাড়তি গ্রাহককে সুবিধা দিতে প্রকল্পের সময়-ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে এই বিভাগে মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭ লাখ ১০ হাজার। প্রকল্পের শুরুতে এই সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৭০ হাজার।

‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ)’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালর জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদ বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে আট হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশহিসেবে বিদ্যুতহীন গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় ৭৭ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন বসানো হবে। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন সমগ্র দেশকে পূর্ব ও পশ্চিম এ দুই ভাগে ভাগ করে প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ২০১৯ সালের অক্টোবর পযর্ন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত আট হাজার ৭৪০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন, আটটি নতুন উপকেন্দ্র এবং তিনটি বিদ্যমান উপকেন্দ্রের ক্ষমতা অতিরিক্ত ৩০ এমভিএ করা হবে। অতিরিক্ত গ্রাহক সেবা দিতে মূল প্রকল্পের থেকে সংশোধিত প্রকল্পে ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা পরামর্শক সেবা খাতে বাড়ছে। এসব কারণেই প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়ছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুৎ বিতরণে কয়েকটি সংস্থা কাজ করলেও গ্রামীণ ও মফস্বলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ করছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-পবিবো। শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে সরকার ১৯৭৬ সালে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন করে। বোর্ড সমবায় ভিত্তিতে বিভিন্ন সমিতির মাধ্যমে নতুন নতুন এলকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সরকারের এ লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে পবিবোর ৭৯টি বিদ্যুৎ সমিতি। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি পল্লী বিদ্যুতের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের অধীনে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এতে উঠে আসে শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য সংস্থাটির বিতরণ এলকায় চার লাখ ৭২ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন স্থাপন করা প্রয়োজন।

এর মধ্যে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন লাখ ১৫ হাজার কিলো মিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ হয়েছে। একই সময়ে এক কোটি ৬২ লাখ গ্রাহক সংযোগও দেয়া হয়েছে। এছাড়া চলমান ১৫টি প্রকল্পের আওতায় ৮০ হাজার কিলো মিটার লাইন নির্মাণ ও কয়েক লাখ সংযোগের কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট ৭৭ কিলো মিটার লাইন নির্মাণ বাকি থাকে।

এ অবস্থায় শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নে বাকি এলাকাগুলোয় বিরতণ লাইন বসানোর জন্য পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল ভিত্তিক দুটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলের জন্য নেয়া প্রকল্পে ৩৯ হাজার ১০০ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ, ৬১টি (৮৭০ এমভিএ) নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ, বিদ্যমান ৯৭টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের ৮৪৫ এমভিএ ক্ষমতা বর্ধন, ৩৯ সেট রিভার ক্রসিং টাওয়ার নির্মাণ, ২৬.৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়, একটি সুইচ স্টেশন নির্মাণ এবং ১৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক সংযোগ।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া প্রান্তিক এলাকায় বিদ্যুতের সুবিধা নিয়ে কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের বিকাশ ঘটবে, সেচের মাধ্যমে অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য হ্রাস পাবে।


ঢাকা/হাসিবুল/সনি