ঢাকা, সোমবার, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

'সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে বৈষম্য বাড়ে'

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২০ ২:৫০:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২০ ২:৫০:৪৩ পিএম

সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং লিঙ্গ বৈষম্য হয় বলে জানিয়েছেন প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক ও নারী নেত্রী রোকেয়া কবির।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগে সাউথ এশিয়া অ্যালায়েন্স ফর পভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপে) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় লিঙ্গ ভিত্তিক মজুরির পার্থক্য সবচেয়ে প্রকট এবং এখানে লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রমে নিযুক্ত পরিমাণেও পার্থক্য অনেক বেশি। এই পার্থক্য দিন দিন বেড়েই চলছে।

মানববন্ধনে জানানো হয়, আইএলও-এর 'ওমেন এট ওয়ার্ক : ট্রেন্ডস ২০১৬' প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণের হার ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশে কমে এসেছে।

বিশ্বব্যাপী নারীরা পুরুষের চেয়ে ২৪ শতাংশ কম মজুরি পেয়ে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্তানের মা হয়েছেন এমন নারীরা পুরুষের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম এবং সন্তানের মা নন এমন নারীরা পুরুষের চেয়ে ১৪ শতাংশ কম মজুরি পেয়ে থাকেন। স্বল্প সংখ্যক ক্ষমতাবানের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ায় এ ধরনের বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বৈষম্য মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এবং অন্যান্য দেশের সরকারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আটটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশগুলো হচ্ছে, ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা যা নারীদের জন্য বৈষম্য ও শোষণমূলক নয়, দেশীয় কর রাজস্ব সচল করা এবং ধনী ব্যক্তি ও কোম্পানির প্রতি অন্যায্য কর ছাড় বন্ধ করা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পুনর্জীবিত করার জন্য বিনিয়োগ করা, শ্রমিক অধিকারগুলো আমাদের অর্থনৈতিক মডেলের ভিত্তিরূপে স্থাপন করা, ক্ষতিগ্রস্থ আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জলবায়ু বিপর্যয় রোধ এবং জীবননাশী জ্বালানির অযৌক্তিক প্রভাব দূর করা, নারী ও ক্ষুদ্র কৃষকের ক্ষমতায়নে নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যের পরিবেশের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুশীল সমাজের মুক্তচিন্তা স্থান নিশ্চিত করা।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, ইনদিন বাংলাদেশ এর পরিচালক মোস্তাক আলী প্রমুখ।


ঢাকা/নূর/জেনিস