ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নীতিমালা না মানায় বঞ্চিত মোবাইল গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২০ ৪:৩১:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২০ ৪:৩১:২৬ পিএম

টেলিযোগাযোগ সেবার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এনটিটিএন (ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক)।

বর্তমানে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অপারেটরা মাত্র ৫ শতাংশ সার্ভিস নিয়ে থাকে। এই সার্ভিস দিয়ে গ্রাহকদের সেবার মান ঠিক রাখা কঠিন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি সকল এনটিটিএনদের রুলস রেগুলেশন মেনে চলতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথ অনুসরণ না করায় নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে মোবাইল গ্রাহকরা। সমন্বিতভাবে ট্রান্সমিশন পরিচালিত হলে সেবার দামও কমবে, মানও বাড়বে।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন আয়োজিত এ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ, ফাইবার হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

এস এম ফরহাদ বলেন, বর্তমানে জিডিপির ৭ শতাংশ অর্জিত হচ্ছে টেলিযোগাযোগ সেবা থেকে। ৩জি’তে আমরা ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। সেই অর্থ এখন পর্যন্ত আমরা উত্তোলন করতে পারিনি।  বর্তমানে বিশ্বে গড়ে একজন গ্রাহক ১২০০ টাকা টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে ১০০ টাকার সেবা দিতে সরকারকে দিতে হচ্ছে ৫২ টাকা। বাকি অর্থ দিয়ে সকল ব্যয় পরিশোধ করতে হয়।

ফাইবার হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে একজন গ্রাহক গড়ে ১ জিবিপিএস ব্যবহার করছে। আগামীতে গড় ব্যবহার দাঁড়াবে প্রায় ৩ জিবিপিএস। গ্রাহকদের ব্যয় আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই ব্যয়কে কিভাবে গ্রাহকদের সামর্থ্যরে মধ্যে রাখা যায় তা নিয়ে এখনি কাজ করা দরকার। আমাদের সক্ষমতা অনেক কিন্তু টেলিকম অপারেটররা আমাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিকল্পভাবে সার্ভিস নেয়ায় গ্রাহকদের সেবার মান বাড়ছে না।

জোনায়েদ সাকী বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে সব কাজকারবার হয় বলে নিয়ন্ত্রক কমিশন জবাবদিহিতা করে না। তার অন্যতম উদাহরণ আজকের অনুষ্ঠানে তাদের অনুপস্থিত থাকা। তারা যদি থাকতেন তাহলে সবার বক্তব্য শুনে তাদের তৈরি করা গাইডলাইন সবাইকে মানতে বাধ্য করতে পারতেন।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। আগামীতে ডেটার ব্যবহার বৃদ্ধি পাবার ফলে অর্থনীতির বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে। টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিটিআরসি নতুন লাইসেন্স প্রদান করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে বাজার যাচাই-বাছাই করা উচিত। তা না করে লাইসেন্স প্রদান করায় পূর্বের এনটিটিএন লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সাথে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়বে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রবির ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, আণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক পরিচালক ড. কামরুজ্জামান, পিজিসিবির পরিচালক প্রকৌশলী এম. আশরাফ হোসেন, ফাইবার হোম’র রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ফারুক আব্বাসী প্রমুখ।


ঢাকা/ইয়ামিন/সাইফ

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও