ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ৩১ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘সিনেপ্লেক্সের টিকিটে প্রযোজকের অংশ নির্ধারণ করা হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৮ ১০:৪৩:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৯ ১২:৩০:১৩ এএম

সিনেপ্লেক্সের বিক্রি করা টিকিটের টাকার অংশ মালিক ও প্রযোজকদের মধ্যে সরকার নির্ধারণ করে দেবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক, পরিচালক ও প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রীকে প্রযোজক-পরিচালক নেতারা জানান, সিনেপ্লেক্সের বিক্রিত টিকিট থেকে তারা তাদের ন্যায্য পাওনা পান না।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, সিনেপ্লেক্সে একটি টিকিট বিক্রি করে ৪৫০ টাকা নেয়া হলে সেখান থেকে প্রযোজককে মাত্র ৫৫ টাকা দেয়া হয়। আর হলে ২৫০ টাকার টিকিট থেকে ৩৩ টাকা, ২০০ টাকার টিকিট থেকে ১৭ টাকা এবং ১৬০ টাকার টিকিট থেকে ১৩ টাকা পান প্রযোজক।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, দেশীয় ছবির অভাবে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রযোজক ছবি না বানালে তার খরচ থাকে না, কিন্তু হলে সিনেমা না চললেও প্রতিদিনই খরচ হয়।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আগে বলতাম প্রযোজক বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে, এখন বলছি হল বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে। দেশে এক হাজার ৩০০ সিনেমা হল ছিল। গতবার ১৭০টি হলে চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়া গেছে। এবার ৮০টির ওপর হল খুঁজে পাইনি।’

এ পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা বলছেন সিনেমা হল থেকে প্রযোজকরা টাকা পান না। তাহলে প্রথম দিকে আমরা সিনেপ্লেক্সগুলোতে একটা পার্সেন্টেজ নির্ধারণ করে দিতে পারি। পরবর্তী ধাপে আমরা সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমা হলে যাই।

তি‌নি ব‌লেন, ‘সিনেপ্লেক্সে টিকিটের দাম কোনো জায়গায়ই ৩০০ টাকার কম নয়। সেখান থেকে প্রযোজক মাত্র ৩০ টাকা পাবেন, এটা হওয়া উচিত নয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা বাণিজ্য, শিল্প ও এনবিআরকে নিয়ে একটি যৌথ মিটিং ডেকে একটা নির্দেশনা খুব সহসা জারি করতে পারব বলে আশা করছি।

প্রযোজকদের অসুবিধা হচ্ছে, একটি ছবি যখন তারা নির্মাণ করেন তখন টাকা উঠে আসে না। অর্থাৎ বহুমুখী সমস্যা এখানে। আমরা চেষ্টা করছি প্রথম থেকেই কিন্তু আমাদের একক চেষ্টায় সবকিছু হয় না। এখানে আরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যুক্ত। এসব কারণে নানা বাধা অতিক্রম করতে হচ্ছে- বলেন তিনি।

মন্ত্রী ব‌লেন, এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করতে পেরেছি। সেটি হচ্ছে, আগে অনুদান দেয়া হতো পাঁচ কোটি টাকা, এ বছর থেকে সেটা হচ্ছে ১০ কোটি টাকা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা নীতিমালা পরিবর্তন করতে যাচ্ছি, প্রায় চূড়ান্ত। সেটি হচ্ছে- অনুদানে যে ছবিগুলো বানানো হবে, তা হলে মুক্তি দিতে হবে। আগে অনুদানের ছবি হলে মুক্তি দিতো না, আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিতো। হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার বড় কারণ হচ্ছে, হল ছবি পাচ্ছে না।

নির্দিষ্ট সংখ্যক সিনেমা বোম্বে (মুম্বাই) থেকে আমদানির বিষয়ে পরিচালক ও প্রযোজক সমিতি একমত রয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি এ ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, এ ব্যাপারে শিল্পী সমিতি এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সম্মতি দেয়নি। আমি সব পক্ষের সম্মতি ছাড়া এটা করতে চাই না। অতীতে একবার করা হয়েছিল। সেটা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে।

হল মালিকদের কম হারে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে চিঠি দেবেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মালামাল আমদানির ক্ষেত্রে শিল্প হিসেবে সুবিধার জন্য এনবিআরের সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু শিল্প ঘোষণা করলেই এনবিআর ট্যাক্স সুবিধা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে এনবিআরের গেজেট নোটিফিকেশনে পরিবর্তন আনতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য চলচ্চিত্রকে অতীতের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া নয়, এই চলচ্চিত্র বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে প্রবেশ করবে এবং বিশ্ব বাজারে স্থান দখল করবে।’


ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এনএ