ঢাকা, শনিবার, ২৭ চৈত্র ১৪২৬, ১১ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:
চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি

সংসার আর চলছে না

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২০ ১২:২২:১৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২০ ৮:২৯:১১ এএম

পাঁচ সদস্যের পরিবার শাহাবুদ্দিনের। অভাব যেন পিছু ছাড়ে না। অভাব ঘোচাতে ভোলা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন।

অভাবের কারণে নিজে পড়ালেখা করতে পারেননি। আশা ছিল সন্তানদের শিক্ষিত করবেন। কিন্তু তা আর দেখে যেতে পারলেন না। গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে নিভে যায় জীবন প্রদীপ।

এদিকে অভাবে টিকে থাকা দায় হয়েছে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী ও তার তিন ছেলের। সাহায্য উঠাতে পারলে খাবার জুটে। না হলে অনাহারে থাকতে হচ্ছে। খাবার না পেয়ে রোগে ভুগছেন শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী ছকিনা ওরফে জরিনা বেগম। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

শাহাবুদ্দিনের খালা শাশুড়ি ঝিনু বেগম রাইজিংবিডিকে বলেন, শাহাবুদ্দিন কামরাঙ্গীর চরে থেকে কখনও রিকশা আবার কখনও ভ্যান চালাত। বেশিরভাগ রাতেই রিকশা/ভ্যান চালাত সে। ওইদিন শাহাবুদ্দিন কামরাঙ্গীর চর থেকে মাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে যান চকবাজার এলাকায়। সেখানে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, শাহাবুদ্দিন ছিল তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছোট ছেলের যখন সাত মাস বয়স, তখন শাহাবুদ্দিন মারা যায়। বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেনিতে ও মেঝ ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পেটে ভাত না থাকলে কি আর পড়ালেখা করা যায়। সাহায্য চেয়ে চেয়ে খাচ্ছে। সাহায্য উঠাতে পারলে খায় আর। না পারলে অভুক্ত থাকে।

ঝিনু বেগম বলেন, শাহাবুদ্দিনের শ্বশুর রিকশা চালায়। আর দুইটা গরু আছে। সেখান থেকে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে তারই চলে না। এই চারজনের চাহিদা মেটাবেন কেমনে। শাহাবুদ্দিন মারা যাওয়ার পর তার তিন ছেলের খাবার জোগাতে বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেছে ছকিনা।

তিনি বলেন, না খেয়ে থাকতে থাকতে ছকিনা আলসারে আক্রান্ত। ১৪ দিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফিরেছে। অভাবের সংসার ওষুধ খেতে পারছে না। পরিবার আর চালাতে পারে না। তারা বলছে ‘মরে গেলে যাক। কি করবো, সমিতি থেকে টাকা তুলে চিকিৎসা করাইছি। আর পারছি না। চিকিৎসার অভাবে যেকোনো সময় মারা যেতে পারেন ছকিনা।’ আমরাও সাহায্য করতে পারি না, নিজেদেরও সংসার আছে। এখন পর্যন্ত যে যা দিত তাই দিয়ে চলতো। এই ৫/১০ সের চাল দিতো তাই দিয়ে চলে যেত। ২/৫ হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করবে এমন কেউ নেই।

ঝিনু বেগম বলেন, ঘটনার দিন রাতে দিকে শাহাবুদ্দিন ছকিনাকে বলে মোবাইল খোলা রাইখো। বিকাশে এক হাজার টাকা পাঠাব। পরে সে চলে যায়। কিন্তু সেই টাকা আর পাঠাতে পারেনি। পরে তার ফোন বন্ধ পায়। গ্যারেজের মালিক ফোন দিয়ে দুর্ঘটনার কথা জানায়। পরে ছকিনা, তার মা-বাবা, ভাই ঢাকায় যায়। মেডিক্যালসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও শাহাবুদ্দিনের লাশ পাওয়া যায়নি। তিন দিন পর তারা আবার গ্রামে চলে আসে। এরপর আমি ওদের নিয়ে ঢাকা যাই। জানতে পারি ওর লাশ কুঁড়িগ্রাম পাঠানো হয়েছে। চার মাস ২২ দিন পর সেই লাশ আমরা পাই।

সরকার যেন এ অসহায় পরিবারকে সাহায্য করে এবং মামলার বিচার যেন দ্রুত শেষ হয় এ প্রত‌্যাশা করেন ঝিনু বেগম।


ঢাকা/মামুন/সাইফ/নাসিম