ঢাকা, সোমবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘বাবাকে ছাড়া চলা কত কষ্টের টের পা‌চ্ছি’

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২০ ৮:০৭:০৫ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২০ ৮:৫১:২৭ পিএম

একটি মশলা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন মো. জুম্মন। সারাদিন কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়ে এলাকায় ফিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেন। প্রতিদিনের মতো গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারিও অফিস শেষ করে এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন জুম্মন। কে জানতো এটাই তার জীবনের শেষ আড্ডা। সেদিনের চুড়িহাট্টার আগুন জুম্মনসহ তার বন্ধুদের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে।

জুম্মনের ছেলে মো. আসিফ। চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী তিনি। বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ‘ক্যাটস আই’ এর শো-রুমে কর্মরত আসিফ।

আসিফ বলেন, ‘৭১ জন মানুষ নির্মমভাবে পুড়ে মরার এক বছর হয়ে গেলো। এখনো বিচার শুরু হলো না। আমরা এতে হতাশ। বিচার কি আদৌ হবে? সেদিন আমি আমার বাবাকে হারিয়েছে। আমার মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে গেছে। বাবাকে ছাড়া চলা যে কি কষ্টের তা টের পাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিদিন অফিস করে বাবা তার বন্ধুর দোকানে আড্ডা দিতেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আড্ডা দিচ্ছিলেন। দোকানে বসে সেদিন যে ক’জন আড্ডা দিচ্ছিলেন তারা সবাই মারা যান। আমরা পাঁচ ভাই, মা আছেন। আমি বাদে সবাই বেকার। আগে বাবা আর আমার টাকায় সংসার চলতো। এখন সম্পূর্ণ প্রেশার আমার ওপর। মাঝে মধ্যে কী করব বুঝে উঠতে পারি না। ঋণি হয়ে যাচ্ছি। বিচারও পেলাম আর ক্ষতিপূরণও পেলাম না।’

আসিফ বলেন, ‘সরকার যেন আমাদের দিকে একটু নজর দেয়। অন্তত আমাদের পরিবারের একজনকে একটা সরকারি চাকরি দেয়। একটা চাকরি পেলে আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবে। আমরা কর্ম করে খেতে চাই। সরকার একটা চাকরির ব্যবস্থা করলে সন্তুষ্ট হব।’

** সানি জানে না, তার মা আর ফিরবে না

** ভেতরে সব পুইড়া মরল, শুধু দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া দেখলাম’

** ময়নাতদন্তে আটকে আছে প্রতিবেদন

** চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির এক বছর

 

ঢাকা/মামুন খান/সনি