ঢাকা, সোমবার, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সব আন্দোলনের সূচনা ভাষা আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২২ ১১:৪৮:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২২ ১১:৪৯:৫৪ পিএম

কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, সকল আন্দোলন সংগ্রামের সূচনা ৫২র ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আন্দোলনে রুপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের উপাদান সংরক্ষণ করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির শামসুর রহমান মিলনায়তনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নূরুন নবী'র 'অনিবার্য মুক্তিযুদ্ধ' ও 'বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের যুদ্ধাপরাধ ও প্রেসিডেন্ট নিক্সন-ড.কিসিঞ্জারের দায়' এ বই দুটির প্রকাশনা উৎসবের আ‌য়োজন করা হয়।

তি‌নি ব‌লে‌ন, যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের দায়িত্ব হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। দেশব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। এগুলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই এসব উপাদান সংরক্ষণ করতে হবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে জানতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারবেনা। বঙ্গবন্ধু কালজয়ী এটা চিরন্তন সত্য হয়ে থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হয় তো বা আগামী ১০/২০ বছর পর আর কেউই বেঁচে থাকবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান, তাদের বীরত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা চিরন্তন ও চির অবদান হয়ে থাকবে। এ সময় লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে গবেষণা করার আহ্বান জানান ড. রাজ্জাক। তিনি বলেন, এতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে, নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ করতে পারবে। আর তাহলেই দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। এসময় মন্ত্রী পদ্মাসেতুসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরো বলেন,স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র এখনো সক্রীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিতে। অতীতেও এ চক্রটি আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বারবার বদলানোর অপচেষ্টা করেছে।

সাময়িকভাবে এ চেষ্টা সফল হলেও চূড়ান্তভাবে তারা পরাস্ত হয়। কারণ ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে। কেউ তা বদলাতে পারে না, বরং যারা এ অপচেষ্টা করে তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

লেখক বেলাল বেগ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীত আলোচকবৃন্দ ছিলেন কবি ও সচিব ফারুক হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম, লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, কবি সৈয়দ আল ফারুক, কবির সহধর্মীনি জিনাত নবী এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী।


ঢাকা/ আসাদ/নাসিম