ঢাকা, রবিবার, ২২ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বায়ু দূষণে ফের শীর্ষে বাংলাদেশ : করণীয় জানালেন আইনুন নিশাত

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৭ ৮:৩৭:৪১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৭ ৪:৫৭:১৯ পিএম

বায়ু দূষণের দিক থেকে এবারো বিশ্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো বায়ু দূষণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

বিশ্বের বায়ুর মান প্রতিবেদন-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

এর থেকে উত্তরণে এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। রাইজিংবিডির সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি এমনটা জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক আবু বকর ইয়ামিন।

রাইজিংবিডি: বিষয়টি জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর্যায়ে গেছে বলে মনে করেন কি?

আইনুন নিশাত: সরকার তো নানা উদ্যোগই গ্রহণ করছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেই বা কি আর না করলেই বা কি। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর মিলিটারি বা প্রশাসনিক ভাবে অনেক নিয়ম কানুন শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়। যেটি ঘোষণার প্রেক্ষিতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের উপর নির্ভর করে। সরকার এক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখছে কিংবা কতটা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে সেটি নির্ভর করে সরকারের একান্তই সদিচ্ছা এবং উদ্যোগের উপর।

আপনি চাইলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন কিন্তু সে ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করলেন না তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেই বা লাভ কি? তবে বর্তমান বায়ু দূষণ যে পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশে এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা আর কিছু হতে পারে না। সরকারের উচিত হবে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। এটি সময়ের একান্ত দাবি।

রাইজিংবিডি: তাহলে সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে মনে করেন?

আইনুন নিশাত: সরকার তো উদ্যোগ নিচ্ছেই। তবে সেটির মাধ্যমে আমরা কতটা সুফল পাচ্ছি সেটি দেখার বিষয়।

রাইজিংবিডি: এক্ষত্রে করণীয় কী হতে পারে?

আইনুন নিশাত: প্রথমত, ইটভাটার বিষয়টিকে আমি গুরুত্ব সহকারে দেখব। ইটভাটার ধোঁয়া নির্গমন যত উঁচুতেই হোক না কেন এটি বায়ুর সাথে মিশে ক্ষতিসাধন করে। সরকার এর জন্য একটা উচ্চতা নির্ধারণ করে দিলেও সমস্যার সমাধান হবে বিষয়টা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। কারণ উচ্চতার পরেও সেটি বিস্তৃত এলাকায় বায়ুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যেটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আমি  বলছি না যে ইটভাটা রাখা যাবে না। অবশ্যই রাখবে এবং এটির প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে সেক্ষেত্রে এটার আধুনিকীকরণ খুবই জরুরি। এটা জনবহুল এলাকার বাইরে করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাস-ট্রাক গুলোর বিষয়টা নিয়ে এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আপনি দেখবেন ট্রাকের ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাতের বেলায় অনেকগুলো ট্রাক ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। এগুলো ওভারলোডেড থাকে। যেগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া বের হয়। যেটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং বায়ুকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।

তৃতীয়ত, রাস্তা ঝাড়ু দেয়ার ক্ষেত্রে যারা নিয়োজিত থাকেন তাদের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা থাকা উচিত যে, তাদেরকে এমন একটি সময়ে ঝাড়ু দিতে হবে যে সময়ের মধ্যে মানুষের যাতায়াত কম থাকে। ঝাড়ু দেয়ার আগে অবশ্যই রাস্তায় যাতে পানি ছিটিয়ে সেটি করা হয়।

চতুর্থত, নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে যে ইট, বালি, সিমেন্ট রাখা হয় সেগুলো ঢেকে রাখা খুবই জরুরি।

রাইজিংবিডি: সরকারের উদ্যোগে সন্তোষজনক মনে করেন কি?

আইনুন নিশাত: আমি বলছি না যে সরকারের উদ্যোগ অসন্তোষজনক। তবে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করছে সেটা আপনি আমরা সবাই দেখছি। সেটির কার্যকর ভূমিকা কতটুকু সেটা আপনিও জানেন আমিও জানি। সেটি আমাদের প্র্যাকটিকাল কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করুক। যদি বারবার রাজধানী ঢাকা ও দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বায়ু দূষণের প্রথম অবস্থানে উঠে আসে তাহলে সরকারের উদ্যোগ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে নতুন করে প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয় না। ইট ভাটাসহ এসব ক্ষেত্রে দায়ীদের ধরে ধরে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

রাইজিংবিডি: ধন্যবাদ আপনাকে।

আইনুন নিশাত: রাইজিংবিডি ও আপনাকেও ধন্যবাদ।

মূলত বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম-২.৫-এর পরিমাণ দেখে তালিকাটি করেছে আইকিউ এয়ার থেকে।

এতে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে বাতাসের প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫ এর মাত্রা ছিল ৮৩ দশমিক ৩। এর আগের বছর যা ছিল ৯৭ দশমিক ১। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রতি ঘনমিটারে যা থাকার কথা ১০-এর কম।


ঢাকা/ইয়ামিন/জেনিস