ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রিপোর্টারের বর্ণনায় যাত্রাবাড়ী এলাকার চিত্র

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৯ ৩:২৪:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৯ ৪:২৬:০৮ পিএম
ছবি : শাহীন ভূইয়া

করোনাভাইরাসের সংক্রামণ রোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার সব  হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। মুদি দোকান খোলা আছে। মাছ-বাজার,সবজির বাজারে নেই মানুষের ভীড়। তবে যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন অলি-গলির ভেতরে চা দোকান গুলোতে মানুষকে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। রাস্তায় চলছে রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা, জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি। দুই/একটি প্রাইভেট কারও চলাচল করতে দেখা গেছে।

এদিকে যাত্রাবাড়ীর মেইন মোড়ে সেনাবাহিনীর একটি দলকে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন ও দল প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক।

রোববার সকাল ১০টা। রাইজিংবিডির ফটোগ্রাফার শাহিন ভূঁইয়া ও এ প্রতিবেদক হেঁটে রওনা হন যাত্রাবাড়ীর দিকে। উদ্দেশ্য যাত্রাবাড়ীর এলাকার দৃশ্য সরেজমিনে দেখা।

হেঁটে কিছুদূর এগুতেই দেখা যায় দক্ষিণ কুতুবখালীর মোড়ে একটি চা দোকানে ৫/৬ জন মানুষের জটলা। ফটোগ্রাফার ছবি তুলতে শুরু করেন। এ প্রতিবেদক, চা দোকানের সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের করোনাভাইরাস রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও বাসায় অবস্থান করার বিষয়টি বোঝান। তখন জটলা ভেঙে সবাই তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে যায়।

চা দোকানে উপস্থিত থাকা খোন্দকার সানোয়ার হোসেন বলেন, পাশেই বাসা। সারাদিন বাসায় বসে তো ভালো লাগে না। চা পান করতেই এখানে এসেছি। তবে করোনাভাইরাস রোধে আরো সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। গলির ভেতরে আরো দুটি চা দোকানের সামনে জটলা করে বসে মানুষকে গল্প করতে দেখা যায়। তবে রাইজিংবিডির ফটোগ্রাফার ও প্রতিবেদক কাছে যেতেই তারা জটলা ভেঙে দূরে অবস্থান করেন।

ওই জায়গা থেকে বিদায় নিয়ে আমরা এগুতে থাকি।
 


যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ৎ সংলগ্ন মেইন রোড়ে দুটি ট্রাকের উপরে গাদাগাদি মানুষ বসে থাকতে দেখে চোখ আটকে যায়। ট্রাকের কাছে গিয়ে ফটোগ্রাফার ছবি তুলতে থাকেন। ট্রাকের ভেতরে বসে থাকা ফরিদ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমরা সবাই মাছ ব্যবসায়ী। বরিশালের মেহেদীগঞ্জ থেকে মাছ নিয়ে এসেছিলাম। এখন আবার যাচ্ছি। এভাবে গাদাগাদি করে যাওয়ার ক্ষতিকর দিক গুলো বোঝালে তিনি বলেন, কি করবো বলেন, আমরা মুর্খ মানুষ, কিছু বুঝি না। পেটের দায়ে মাছ বিক্রি করতে এসেছি। তিনি ওই ট্রাকের চালক আসলাম অভিযোগ করে বলেন, মাছ নিয়ে আসার সময় মাওয়া ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু না বলেই আমাদের মারধর করেছে। তারা বলেন, আমরা তো মুর্খ মানুষ, আমাদের তো আগে বুঝাতে পারতো।

ছবি তুলে, কথা বলে ফটোগ্রাফার শাহিন ভূঁইয়াকে নিয়ে এগুতে থাকি।

হাঁটতে হাঁটতে দেখি রাস্তার দুই পাশের সব হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী মেইন মোড়ে এসে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর একটি দল মানুষকে সচেতন করতে দায়িত্ব পালন করছেন। পথচারীদের করোনাভাইরাস রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি বোঝাচ্ছেন।

এ প্রতিবেদক এগিয়ে গিয়ে দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ওবায়েদুর রহমানের কাছে তাদের কাজ সম্পর্কে জানতে চান।

তিনি বলেন, মানুষকে বাঁচানোর জন্য যা করার দরকার সেই দায়িত্ব আমরা পালন করছি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সচেতন করছি। সবাই যেন নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকে এটাই আমাদের আহ্বান।



ঢাকা/মেহেদী/এসএম