ঢাকা, বুধবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৩ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে ফিরছেন বিদেশিরা

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-৩০ ৭:৩২:১৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-৩১ ১:৩৩:৩৯ এএম
ফাইল ফটো

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উড়োজাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় দেশ ছাড়ছেন বিদেশি নাগরিকরা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস সূত্র বলছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আপদকালীন সময়ের জন্য তারা নিজ দেশে যাচ্ছেন, আবার ফিরে আসবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা সংক্রান্ত প্রস্তুতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে শুধুমাত্র সক্ষমতা এবং করোনা পরীক্ষা নিয়ে। সেক্ষেত্রে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ এরইমধ্যে সক্ষমতার ঘোষণা দিয়েছে। তবে চলমান পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশিরা দেশে ফিরে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে অবস্থানরত ৩৫৬ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সোমবার সন্ধ‌্যায় ঢাকা ছাড়েন।  এর আগে ২৫ মার্চ রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশটির নাগরিকরা ঢাকা ত্যাগ করেন। ওই ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দেশটির মোট ২২৫ জন নাগরিক ছিলেন।  ২৬ মার্চ সকালে ড্রুক এয়ারের দুটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছেড়েছেন ভুটানের ১৩৯ জন নাগরিক। নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ থাকায় চার্টার্ড প্লেনে তারা দেশে ফেরেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আপদকালীন সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য, চীন, থাইল্যান্ড ও তাইওয়ান- এই চারটি রুট চালু রাখা ছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যের দুটো রুটের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করার পরই বিদেশিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করছেন না আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, আস্থা-অনাস্থা পুরোপুরি আপেক্ষিক বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কূটনীতিকদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখনই সরকার তা-ই করছে। এরপরও বিদেশিদেরও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় রয়েছে।

তিনি বলেন, যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ীই হয়তো তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।  এক্ষেত্রে অনেকে হয়তো বলছেন সরকারের উপর চাপ পড়বে, আমি এখনই তা মনে করছি না।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসগুলো আমাদের জানিয়েছেন- এটি সাময়িক ব্যবস্থা।  শুধুমাত্র করোনার কারণে বা আশ্বস্ত হতে না পেরে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেউ- এমন তথ্য আমরা পাইনি। তবুও বিষয়টিকে আমলে নিয়েছি আমরা।

তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সব দেশকে ‘ঐক্যবদ্ধ’ হতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরস্পরের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, খুব শিগগরিই একসঙ্গে ওই বৈশ্বিক মহামারির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।


ঢাকা/হাসান/জেডআর