ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কবে শুরু হচ্ছে ঢামেকে করোনা পরীক্ষা?

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-৩১ ৮:৫৫:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০১ ১১:৪০:২৩ এএম

করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পিসিআর মেশিনের বায়োসেফটি কেবিনেটের জন্য কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে রয়েছে টেস্টিং কিটের সংকট। এসব কাটিয়ে কবে নাগাদ দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের শনাক্ত পরীক্ষা শুরু হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢামেকে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু করা গেলে নমুনা সংগ্রহের পর চার ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে বায়োসেফটি কেবিনেট না বসানো পর্যন্ত এ কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

এক্ষেত্রে আপাতত অন্য কোনো হাসপাতাল বা ডিপার্টমেন্টের ল্যাবের বায়োসেফটি কেবিনেট সংগ্রহ করে জনস্বার্থে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। দ্রুত সময়ের মধ্যে কেউ কেবিনেট দিতে পারলে সেটিও কিনতে প্রস্তুত তারা।

ঢামেক হাসপাতালের ভাইরলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ‘টেস্ট করার জন্য আমাদের পিসিআর মেশিন আছে। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার আগে সুরক্ষা নিশ্চিত করে সেসব সংরক্ষণ ও পৃথিকীকরণের বায়োসেফটি কেবিনেট প্রয়োজন হয়। এটা আমাদের ছিল। এটি দিয়ে আমরা অন্য টেস্টগুলো করতাম। যেহেতু করোনাভাইরাসে বায়োহেজার্ডের বিষয় আছে, সেহেতু সার্টিফিকেশন ছাড়া আমরা চালু করতে পারি না। পরে চেক করতে এসে দেখা গেল, বায়োসেফটি কাজ করছে না। অর্থাৎ সেফটি লেভেল পর্যন্ত কাজ করছে না। যে ফিল্টারের মাধমে ভাইরাস ফিল্টার করে, সেটি নষ্ট। ওটা ঠিক করতে গেলে অনেক টাকা খরচ হবে। যে ইন্সট্রুমেন্ট বিদেশ থেকে আনতে হয়, সেগুলোও জাহাজ অথবা বিমানে শিপমেন্ট করতে ৩০ দিনের মতো সময় লেগে যাবে।  পরে সরকারিভাবে আমরা একটি বায়োসেফটি কেবিনেট পেয়েছিলাম। সেটিও দুই বছর আগের। অন্য একটি ডিপার্টমেন্টের ব্যবহার করা। ’

অধ্যাপক ড. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ‘এখন আমরা বায়োসেফটি কেবিনেট অ্যারেঞ্জ করার চেষ্টা করছি। সরকারি কোনো স্টোরেও এটি নেই। আর এটা থাকার কথাও না। কারণ এটা দামি জিনিস, কেন ফেলে রাখবে? বড় একটি বায়োসেফটি কেবিনেটের দাম প্রায় ১০ লাখ ও ছোটটার দাম প্রায় সাড় ৭ লাখ টাকা। আমাদের বড় কেবিনেট লাগবে। যারা ইকুইপমেন্ট সাপ্লাই করে, তাদের বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা কেউই দিতে পারছে না। তারা বলছে, এখন অর্ডার দিলে ১৫ দিন সময় লাগবে শিপমেন্ট করতে। ফলে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কে সাপ্লাই দিতে পারবে, সে চিন্তায় আছি।  অন্য কোনো ডিপার্টমেন্ট থেকে এনে আপাতত পরীক্ষা কার্যক্রম  চালু করার চেষ্টা করছি। ’

টেস্টিং কিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে টেস্টিং কিট দিয়ে পরীক্ষা করা হবে, সেগুলোও আমাদের লাগবে। একই ধরনের কিট আমাদের সবার ব্যবহার করা দরকার। আমি একটা ব্যবহার করলাম, আপনি একটি ব্যবহার করলেন, তাহলে রেজাল্ট আসবে ভিন্ন আসতে পারে। তাই চাচ্ছি একই কিট আমরা ব্যবহার করব, যেটা আইইডিসিআর ব্যবহার করে।  তবে সেই কিটেরও সাপ্লাই নেই। আমরা কিট পার্চেসের চিন্তা করছি। অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আমরা দ্রুত কিট সাপ্লাই পেলে ও বায়োসেফটি কেবিনেট দ্রুত বাসনো গেলে সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু করতে পারব।’

'আমাদের ম্যান পাওয়ার রেডি, সব রেডি, শুধু ইকুপমেন্টের জন্য শুরু করতে পারছি না'- যোগ করেন অধ্যাপক ড. সুলতানা শাহানা বানু।

ঢামেক অধ্যক্ষ ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ করার পর এটি পিসিআর মেশিনে চার ঘণ্টা রাখতে হয়। এরপর ফলাফল বলা যাবে। তবে কোনো রোগীর ক্ষেত্রে স্পেসিফিক সময় বলা যাবে না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব বায়োসেফটি কেবিনেট বসিয়ে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু করার চেষ্টা করছি। ’


ঢাকা/নূর/সাওন/সাজেদ