ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মানুষ পেটানো সেই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে প্রশাসন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১০ ১২:৩৫:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১০ ১২:৫১:১৭ পিএম
ফাইল ফটো

করোনা সতর্কতার নামে মানুষকে বেধড়ক পেটানো টাঙ্গাইল পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।  সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছে।  বিষয়টি নিয়ে  আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। তার বিরুদ্ধে অ‌্যাকশনে যাওয়া হচ্ছে। তারপরও কেউ অভিযোগ করবে কিনা সেজন্য অপেক্ষা করছি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।  টাঙ্গাইল সদর থানায় জিডি করার পর একজন তদন্ত কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়েছে।  আমরা ওই কাউন্সিলরকেও খুঁজছি। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এসআই মনির হোসেন বাদী হয়ে কাউন্সিলর আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন। তদন্তও হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় যারা ভুক্তভোগী তাদের অভিযোগ করতে হবে। আমরা তাদের খুঁজছি।  বিশেষ করে ওই দিন যারা কাউন্সিলরের মারধরের শিকার হয়েছেন।’

এদিকে ভিডিওতে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনি বাজার নিরালা মোড় থেকে প্রধান সড়ক।  সাধারণ জনগণের ওপর লাঠিচার্জ করা ব্যক্তি কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নন।  তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।  অথচ কাউন্সিলর নিজেই সুরক্ষার মাস্ক বা গ্লাভস কিছুই পরিহিত নন।  তার হাতের লাঠির নির্মম প্রহার থেকে রক্ষা পাননি বাজার করতে আসা বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যুবক। অকথ্য ভাষায় গালি দিতেও শোনা গেছে।

একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই প্রকাশ করেননি, অবাকও হয়েছেন। সমালোচনা করে বিভিন্ন মন্তব্য পোস্ট করছেন সচেতন মহল। অনেকেই কাউন্সিলর আমিনুরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টায় কাউন্সিলরের মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে বলেছেন, ‘আবেগের বশীভূত হয়ে তিনি এ কাজ করেছেন। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করার সঙ্গে ক্ষমাও চেয়েছেন।’

এদিকে ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে আর খান রবিন ই-মেইলের মাধ্যমে আমিনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি এবং পৌরসভার মেয়রকে বলা হয়েছে।  অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।


ঢাকা/মাকসুদ/জেডআর