ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ১৪ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ছেলের চিকিৎসায় ঢাকার রাস্তায় রহিমা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ৪:৩২:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ১১:০৩:৪৯ পিএম

রহিমা বেগম। ১০ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। বড় ছেলে আসাদ মানসিক রোগী। ছেলের চিকিৎসায় বাবার বাড়ি ফরিদপুর থেকে রাজধানীতে আসেন গত মার্চ মাসে। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউনে আটকা পড়েছেন রাজধানীতে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা চলছিল ছেলের। ঢাকার বাড্ডার এক বস্তিতে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় থাকছেন। প্রথম দিকে হাসাপতাল থেকে কিছু ওষুধ পেলেও এখন সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। 

বাড়ি থেকে যে টাকা এনেছেন শেষ হয়ে গেছে। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা এখন প্রায় বন্ধ। ছেলের চিকিৎসার খরচ যোগাতে তাই পথে পথে ঘুরছেন এই মা।

রাজধানীর রামপুরার রাস্তায় সাহায্য চাইতে এসে কেঁদে ফেলেন রহিমা। তিনি বলেন, ‘‘স্বামী মারা গেছে প্রায় ১০ বছর আগে। স্বামীর বাড়ি পটুয়াখালী। স্বামী মারা যাওয়ার পর ফরিদপুর বাবার বাড়িতে থাকি। দুটি সন্তান। বড় ছেলে আসাদ। গার্মেন্টসে চাকরি করতো এক সময়। হঠাৎ করে মানসিক রোগী হয়ে যায়। এরপর থেকে বাবার বাড়িতে ছিলাম।

‘মার্চ মাসে ছেলেকে মানসিক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসি। এসেই লকডাউনে আটকা পড়েছি। বাড়ি যেতেও পারছি না, আবার ওষুধ কিনে ছেলেকে খাওয়াতে পারছি না।  হাসপাতাল পোলারে রাখে নাই।  প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার ওষুধ লাগে। টাকার অভাবে খাওয়াতে পারছি না।  তাই রাস্তায় নেমেছি, মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছি।”

রহিমা বলেন, ‘ছেলের চিকিৎসা করানোর জন্য ফরিদপুর থেকে বাসে ঢাকায় আসছিলাম। এখনতো আটকা পড়েছি আগে বাসে করে মানসিক হাসপাতালে যাইতাম, ডাক্তার দেখাইয়া আবার বাসায় নিয়ে আসতাম। ওষুধও যতটুকু পাইতাম, ওখান থেকে কিনতাম। এদিকে সব ওষুধ পাওয়া যায় না। এখন সব বন্ধ, টাকা-পয়সাও নাই। আবার বাড়িও যেতে পারছি না। বাড়ি গিয়েও কি করব? যেভাবে হোক আমার ছেলের চিকিৎসা করাতেই হবে। সেজন্য আপনাদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি।’




ঢাকা/এম এ রহমান/সনি