ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

২ বছর নয়, পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া দেওয়া হবে একবছরে

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ১২ জুলাই ২০২০  

আগামী এক বছরের মধ্যে সদ্য বন্ধ ঘোষিত সরকারি ২৫ পাটকলের ২৫ হাজার শ্রমিকের পাওনা এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। এ জন্য সরকারের মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার কোটি টাকা।

একজন অতিরিক্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটি এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কমিটি এ মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দেবে। এরপর শ্রমিকদের পাওনা অর্থ ছাড় শুরু হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজিএমসি) ও বকেয়া বেতন ও ভাতা নিরুপণের কাজ শুরু করেছে।

গত ২ জুলাই রাষ্ট্রায়াত্বখাতের সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ক্রমাগত লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো গত ২ জুলাই থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারি কর্মরত ছিল। চলতি অর্থবছরে বাজেটে শ্রমিক পাওনা মিটিয়ে দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের পাওনার বিষয়ে একটি চাহিদাপত্র পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এই চাহিদাপত্রটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে কমিটি রিপোর্টটি আমাদের হাতে আসবে।

তিনি বলেন, আগে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, শ্রমিকদের পুরো পাওনা মিটিয়ে দিতে দুই বছরের মত সময় লাগবে। কিন্তু সরকার এখন দুই বছরের পরিবর্তে এক বছরে মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হিসেবে কোনো গড়মিল না থাকলে তার আগেই পাওনা মিটিয়ে দেয়া সম্ভব হবে। আগে ছোট পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনার হিসাবপত্রের কাজ শুরু করা হয়েছে। এরপর বড় পাটকলগুলো হিসেব করা হবে।

গত ২ জুলাই গণভবনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাটকল বন্ধের বিষয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি বলেন, সরকারি খাতের পাটকলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের হয়েছে।

এসময় তিনি ২০১৫ সালের জাতীয় মজুরি কাঠামো অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্তের কথাও জানান। । পাওনা টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ এককালীন নগদ এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের পাটকলগুলো গত ৪৮ বছরের মধ্যে শুধু চার বছর লাভের মুখ দেখেছে এবং ৪৪ বছর ধরে অব্যাহতভাবে লোকসান দিয়েছে। ২০১৫ সালের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে তাদের অবসরকালীন সুবিধাসহ পাওনা পরিশোধ বাবদ সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

 

ঢাকা/হাসনাত/বুলাকী

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়