ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপরে ওঠার শঙ্কা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২২, ১৪ জুলাই ২০২০  

যত বড় দুর্যোগই হোক না কেন সরকারের ত্রাণ সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মহসিন উপস্থিত ছিলেন ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মাসহ নদ-নদীর পানি বাড়েছ। আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। কুশিয়ার ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকায় পানি সমতলে কমছে, এটা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে'।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলার পানি কমবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও রংপুরের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অপরদিকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, নওগাঁ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আমাদের আরও জানিয়েছে, গত ২৭ জুন থেকে যে বন্যা শুরু হয়েছিল সেটা আগাম বন্যা ছিল, সেটা ৬/৭ তারিখ থেকে উন্নতি লাভ করেছে। কিন্তু ১১ জুলাই থেকে আবার পানি বেড়েছে। পানিটা ১৭ জুলাই সর্বোচ্চ বাড়বে। সেই বৃদ্ধিটা আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ স্থায়ী হবে। ২৩টি জেলায় বন্যা বিস্তৃিত লাভ করবে।’

মেঘালয়, চেরাপুঞ্জী, আসাম, ত্রিপুরা, চীন ও নেপালের পানি এসে দেশে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ মুহূর্তে বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১৭টি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মোট বন্যা আক্রান্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৪৬৪টি, পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৭৪টি, বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৭ জন।’

১২ জেলা বেশি বন্যা কবলিত হয়েছে এবং সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে লোক উঠেছে, সেখানে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেখানে ২০ হাজার ১০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে।

সরকারের ত্রাণ সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আরও যত বড় দুর্যোগ আসুক না কেন, দুর্যোগ যত দীর্ঘস্থায়ী হোক না কেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকারের রয়েছে।’

‘বন্যার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে যাতে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে যেতে পারে এজন্য বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোতে ৮ হাজার ২১০ টন চাল, ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, গো-খাদ্য কেনার জন্য ৪৮ লাখ টাকা এবং শিশু খাদ্য কেনার জন্য ৪৮ লাখ টাকা আমরা দিয়েছি'।

কোথাও কোথাও নদী ভাঙনে ঘর ভেঙেছে এজন্য মেরামতে ৩০০ বান্ডিল ঢেউটিন, ৯ লাখ টাকা নগদ দিয়েছি উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।


নঈমুদ্দীন/এসএম

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়