RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৭ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন’

হাসান মাহামুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
‘সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন’

যথাযথ মর্যাদায় সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে ৪৯তম বিজয় দিবস। গত ৪৮ বছরে দেশের অর্জন অংসখ্য। তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হয়নি। বিজয় সুসংহত হয়নি। এজন্য সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজয় দিবসে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী রাইজিংবিডিকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আজ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি, স্বাধীনভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় আত্মনিয়োগ করতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা বলেন, তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে পারি, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরোলেও কিছু ক্ষেত্রে বিজয় এখনো সুসংহত হয়নি। তাই বিজয়কে সুসংহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে শক্তিশালী করতে হবে। মুক্তির চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে জীবনের সকল স্তরে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশকে পেছনে নেয়ার চক্রান্ত করছে। এ ব্যাপারে দেশের জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

আমেরিকার বিখ্যাত রোজেল পার্ক কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডা. এস এন এম নাজমুল হাসান খান বলেন, বিজয়ের দিবসে অভিবাদন সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা পাকিস্তানি আর্মিকে পরাজিত করে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন করেছিলেন ১৯৭১-এ।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণ করে এই গবেষক-চিকিৎসক বলেন, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনটি আমি আমার পরিবারের (মা, দুই ভাই আর এক বোন) সঙ্গে উদযাপন করেছিলাম ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্যের নদীয়া জেলার এক শরণার্থী শিবিরে। এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে, বাবা আমাদের সঙ্গে ছিলেন না। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক কর্মকর্তা আমার বাবা গিয়েছিলেন কুষ্টিয়া জেলার মুক্ত এলাকায় পাকিস্তানি আর্মির ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে এবং বাংলাদেশ সরকারের সার্ভিস শুরু করার জন্য। একজন ৯ বছরের বালক হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে অনেক কষ্টের দিন পার করেছি। না খেয়ে, গাছের নিচে ঘুমিয়ে, জীবন হারানোর ভয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে, স্কুলবিহীন, আরো কত কী! হারিয়েছি পরিবারের জমানো সব সম্পদ। এত কষ্টের পরও ভিনদেশের ওই দিনটি ছিল আমাদের ভীষণ আনন্দের। বিজয় অর্জন আর মুক্তি পাওয়ার আনন্দ। একাত্তরের ডিসেম্বরের আগের কয়েক মাসে শিশু শ্রমিক হিসেবে শরণার্থী শিবিরে কাজ করে আমি কিছু পয়সা জমিয়েছিলাম। সেই সামান্য পয়সায় সামান্য পরিমাণ মিষ্টি কিনে বিজয়ের আনন্দক্ষণটি উদযাপন করেছিলাম পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ড. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান লক্ষ্য ছিল- নৈতিক শিক্ষা ও শিক্ষার বিকশিত ধারা অব্যাহত রাখা। আমরা যখন পরাধীন ছিলাম, তখন শিক্ষাগ্রহণের উচ্চতর ধারা অব্যাহত রাখার সুযোগ ব্যাহত হতো। এখন আমরা স্বাধীন দেশে শিক্ষার সর্বোচ্চ সুযোগ পাচ্ছি। আমরা চাই শিক্ষার এই সুযোগ যেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষার জাগরণ যেন উদার চিত্তে সবাই মনে ধারণ করে। আরকেটি বিষয় হচ্ছে- শিক্ষাদান এবং শিক্ষাগ্রহণের মধ্যে যেন প্রতিহিংসামূলক বা রাজনৈতিক কোনো অপতৎপরতা না আসে। এজন্য আমাদের সকলকে উজ্জীবিত থাকা উচিত।

এই শিক্ষাবিদ আরো বলেন, আমাদের এই বাংলাদেশ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের বসবাসের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বিশ্বে আমাদের দেশ বিভিন্ন দিক থেকে ঐতিহ‌্যময়। এই ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমরা যেন সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে আরো সচেষ্ট হই। শিক্ষার ধারা অব্যাহত রাখতে সবাই যেন আন্তরিক হই, এ বিজয় দিবসে এটাই হতে পারে আমরা আশা।

প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সহ-সভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে গিয়েছিলাম বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে। পাকিস্তানিরা আমাদের শাসন-শোষণ করেছে। স্বাধীনতার পরও দেশকে পিছিয়ে দিতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশ উন্নত হয়েছে, এর সুফল আমরা পাচ্ছি। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে উন্নত দেশে উন্নীত হবো। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য নাগরিক হিসেবেও আমাদের কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের প্রতি অনুগত থেকে স্বাধীনতার মর্মকথা উপলদ্ধি করতে হবে, চিন্তায়-মননে আমাদের সবার মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ ও লালন করতে হবে।


ঢাকা/হাসান/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়