ঢাকা     সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

ভুয়া রিপোর্টেই রিজেন্টের পকেটে কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:৫১, ৭ জুলাই ২০২০  

বিনামূল্যে করোনা টেস্টের অনুমতি নিয়ে স্যাম্পল প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা আদায় করেছে রিজেন্ট হাসপাতাল।  এমনকি সংগ্রহ করা করোনার স্যাম্পলের অর্ধেকের বেশি পরীক্ষা না করেই অনুমান নির্ভর রিপোর্ট সরবরাহ করেছে। 

শুধু তাই নয়, হাসপাতালটি করোনা রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে জানিয়ে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও রোগীপ্রতি দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা আদায় করছে।

সোমবার (০৬ জুলাই) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালিয়ে এমন অপকর্মের প্রমাণ পেয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।  এ সময় হাসপাতালটির ব্যবস্থাপকসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।  অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

র‌্যাব জানায়, অনিয়ম, অপরাধ ও প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ নিজেই দেখভাল করেছেন।  এর সঙ্গে হাসপাতালের অন্য কয়েকজন কর্মীও জড়িত ছিলেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় চেয়ারম্যানকে তলব করা হলেও তিনি পলাতক রয়েছেন।  তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে এবং জড়িত সবাইকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

সারওয়ার আলম বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কয়েকটি অনিয়ম ও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে।  করোনা টেস্টের জন্য আসা রোগীদের বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করানোর কথা ছিল রিজেন্টের। কিন্তু তারা প্রায় ১০ হাজার জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।  আর এসব নমুনার অর্ধেকের বেশি পরীক্ষা না করেই মনগড়া রিপোর্ট দিয়েছে। করোনা রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছে বলে তারা সরকারের কাছে প্রায় দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। অথচ প্রত্যেক রোগীর কাছ থেকে তারা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা বিল করে আদায় করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সারওয়ার আলম বলেন, রিজেন্টকে করোনা চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আগে শর্ত ছিল এখানে যারা ভর্তি হবেন, শুধুমাত্র তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে বিনামূল্যে পরীক্ষা করাবে। অথচ রিজেন্ট কর্তৃপক্ষ বাসায় বাসায় গিয়ে ১০ হাজারের বেশি নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই স্যাম্পলের মধ্যে ৪ হাজার ২৬৪ জনের আইইডিসিআরসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করিয়েছে।  বাকি নমুনাগুলো পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়েছে।  আমরা আইইডিসিআরে রিপোর্ট ক্রসচেক করে দেখেছি, রিজেন্ট স্যাম্পলগুলো তাদেরকে পাঠায়নি। আর ভুয়া রিপোর্টের জন্য গড়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩৫০০ করে টাকা নিয়েছে। সে হিসেবে করোনা পরীক্ষার নামে অন্তত ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিজেন্ট।

** টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট

 

ঢাকা/নূর/জেডআর

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়