ঢাকা     মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৭ ১৪২৭ ||  ০৪ সফর ১৪৪২

নিজের গুণগান গাইলেন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২১, ১৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
নিজের গুণগান গাইলেন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি

বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্বিতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদেও প্রায় একই বক্তব্য দিয়ে আবারও নিজের গুণগান গাইলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসায় রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা, হাসপাতালটির সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি সংক্রান্ত দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এদিন সকাল ১০টার দিকে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যার নেতৃত্বে একটি টিম।

জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই কথা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, কেউ অপরাধ করলে তার কঠোর শাস্তি হোক, এই আমি চাই। এ বিষয়ে তদন্তে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করবো।’

দ্বিতীয় দিনও লিখিত বক্তব্যের বাইরে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণার অভিযোগ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। সাবেক মহাপরিচালক হিসাবে এ বিষয়ে আমার কাছ থেকে শোনার জন্য দুদকের কর্মকর্তারা আমাকে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।  আমি সেজন্যই আজ এসেছিলাম।  যা জানি তাদের বলেছি।  জেকেজি বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই এই বিষয়ে বেশি কিছু বলা সমীচীন নয়।’

এর আগে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) ডা. আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত বক্তব্যে একই কথা বলেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই মহাপরিচালক।

এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (ওএসডি) ডা. মো. আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক মো. ইউনুস আলী এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলামকেও বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদে ছিলেন ডা. আজাদ।  সরকারি চাকরির বয়স শেষ হওয়ার পরও তাকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে ওই পদে রেখেছিল সরকার।  সে অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছরের এপ্রিলে।  কিন্তু গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একের পর এক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ হতে থাকলে বিপাকে পড়তে হয় ডা. আজাদকে।  এক পর্যায়ে গত ২১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র দেন তিনি।

ঢাকা/ এম এ রহমান/জেডআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়