ঢাকা     মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৭ ১৪২৭ ||  ০৪ সফর ১৪৪২

ত্রুটিপূর্ণ ভবন: সুপারিশেই বন্দি অপসারণের কাজ

আসাদ আল মাহমুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০১, ২৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৪:৫২, ২৯ আগস্ট ২০২০
ত্রুটিপূর্ণ ভবন: সুপারিশেই বন্দি অপসারণের কাজ

সুপারিশেই বন্দি হয়ে আছে রাজধানীর ত্রুটিপূর্ণ ভবন অপসারণের কাজ। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দ্রুত এসব ভবন অপসারণ না করলে ভূমিকম্পসহ বড় দুর্যোগে এসব ভবনের বাসিন্দারা ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন। আর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বলছে, এসব ভবন অপসারণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কাজে কিছুটা সময় লাগবে।   

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর ত্রুটিপূর্ণ ভবন অপসারণের দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)-এর। সর্বশেষ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির ২০১৯ জানুয়ারির বৈঠকে ত্রুটিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নিতে সুপারিশ করা হয়।  ওই সুপারিশের আলোকে ৯০৬ ভবনকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রাজউক। এছাড়া, ৩৩৭ ঝুঁকিপূর্ণ, ৩২১ ভবনের নকশা ত্রুটিপূর্ণ, ৮০ মাঝারি ও ১৬৮ ভবনকে অতি-ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ২ লাখ ৪ হাজার ভবনের ওপর জরিপ চালায় রাজউক। এর মধ‌্যে রয়েছে ৩ তলা থেকে বহুতল পর্যন্ত ভবন। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ ভবনের ৯টিই অনুমোদন ও নকশার বাইরে তৈরি করা হয়।  ২ লাখ ৪ হাজার ১০৬ ভবনের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৫ ভবন নিয়ম ভঙ্গ করে নির্মাণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নগর বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক বলেন, ‘রাজউক ও দুই সিটির ব্যর্থতায় রাজধানী বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। মাঝারি কিংবা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে এসব ভবন ধসে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।  যেকোনো ধরনের বড় বিপর্যয়ের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে সতর্ক হতে হবে।’

এই বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান  মো. সাঈদ নূর আলম বলেন, ‘অনেক ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। তবে, নিয়ম না মেনে তৈরি ত্রুটিপূর্ণ সবই বহুতল ভবন। এসব ভবন মালিকের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজউককে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে অভিযান চালায়। পুরান ঢাকার মালিটোলা, নিউমার্কেট, শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন অনেকেই। এরপর, তারা ওইসব ভবনে ব্যবসাসহ বসবাস করছেন। বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ড. তারিক বিন ইউসুফ বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ ভবন অপসারণসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।  রাজউক ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে কাজ করবে। ’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো অপসারণে মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন ভবন অপসারণ একটি রুটিন ওয়ার্ক।’ ত্রুটিপূর্ণ-অবৈধ ভবন অপসরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। 

আসাদ/এনই

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়