ঢাকা     সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ সফর ১৪৪২

ওজোনস্তরের সুরক্ষায় ওয়ালটনের ভূমিকা প্রশংসিত

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৩২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
ওজোনস্তরের সুরক্ষায় ওয়ালটনের ভূমিকা প্রশংসিত

পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অতিথিরা

ওজোনস্তরের ক্ষয় রোধ এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার। বিশ্বের প্রথম এইচএফসি ফেজ আউট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। যা বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর পদার্থের নিঃসরণ রোধের মাধ্যমে ওজোনস্তর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে ‘বিশ্ব ওজোন দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বক্তারা।

ইউএনডিপি এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সহযোগিতায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ সেমিনারের আয়োজন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। সেমিনারে বক্তারা এইচএফসি ফেজ আউটের মাধ্যমে পরিবেশের সুরক্ষায় বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য তৈরির জন‌্য ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ বছর বিশ্ব ওজোন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রাণ বাঁচাতে ওজোন: ওজোনস্তর সুরক্ষার ৩৫ বছর’।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। একই মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মো. মিজানুল হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর, পরিচালক (বায়ুমান) মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি প্রমুখ।

ওয়ালটনের পক্ষে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও রেফ্রিজারেটরের আরঅ‌্যান্ডডি (গবেষণা ও উন্নয়ন) বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী তাপস কুমার মজুমদার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক তৌফিক উল কাদের এবং ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক শরীফ হারুনুর রশীদ ছনি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘ওজোনস্তর হচ্ছে পৃথিবীর ফিল্টার। কিন্তু ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও গ্যাসের ব্যবহারে তা ধ্বংস হচ্ছে। ওজোনস্তর রক্ষার জন্য ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে স্বাক্ষরিত হয় বিশ্ব চুক্তি। মন্ট্রিল প্রোটোকল খ্যাত ওই চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। এরপর ২০১৬ সালে কিংগালি সংশোধনী গৃহীত হয়। যার মাধ্যমে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী ৯৬টি দ্রব্যের উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যবহার হ্রাস ও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১৮ ধরনের এইচএফসি গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশসহ প্রায় ৮১টি রাষ্ট্র কিংগালি সংশোধনীতে অনুস্বাক্ষর করেছে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সরকার পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র‌্য সংরক্ষণ, ওজোনস্তর এবং পরিবেশের সুরক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ও ওজোনস্তরের সুরক্ষায় আমাদের সহযোগিতা করছে তাদেরকে, বিশেষ করে ওয়ালটনকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, ‘ওজোনস্তর রক্ষায় সারা বিশ্ব একযোগে কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ইউএনডিপি এবং ওয়ালটনসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। পরিবেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর জন্য আমরা ২০১২, ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে তিনবার আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছি।’

সভাপতির বক্তব্যে জিয়াউল হাসান পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য ব্যবহারে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ওজোনস্তরের সুরক্ষায় তিনি সবাইকে পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য কেনার ও ব্যবহারের আহ্বান জানান।

ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ বলেন, ‘ওয়ালটন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করছে। রপ্তানি বাজারে কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তৈরি পণ্য যখন ইউরোপের বাজারে যায়, তখন বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়ে।’

তাপস কুমার মজুমদার বলেন, ‘২০১১, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে ওয়ালটন সিএফসি এবং এইচএফসি ফেজ আউটের অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। আর১৩৪এ রেফ্রিজারেন্ট থেকে পরিবর্তন করে আর৬০০এ রেফ্রিজারেন্ট-সমৃদ্ধ ফ্রিজ বাজারে এনেছে ওয়ালটন। যা পরিবেশের সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে। এর ফলে দেশের বাজারে শীর্ষে ওয়ালটন। পাশাপাশি ওয়ালটনের তৈরি পণ্য বিশ্বের ৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।‘

সেমিনারে ওয়ালটন কারখানায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজের সমন্বয়ে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন এবং ওজোনস্তর সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়।

ঢাকা/অগাস্টিন সুজন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়