RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৯ ১৪২৭ ||  ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তামাক কোম্পানির অপতৎপরতা বন্ধে আইন সংশোধন দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
তামাক কোম্পানির অপতৎপরতা বন্ধে আইন সংশোধন দাবি

অপতৎপরতা বন্ধে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে তামাক কোম্পানির সব সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘কোভিড-১৯ ও তামাক কোম্পানি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ দাবি জানান।

ওয়েবিনারে প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার এ বিষয়ে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

বক্তারা জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে করোনা সংক্রমণ সহায়কপণ্য হিসেবে চিহ্নিত করলেও দুইটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানি করোনা মহামারির মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে সিগারেট উৎপাদন, বিপণন ও তামাক পাতা ক্রয় অব্যাহত রাখার জন্য অনুমতিপত্র আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া, ব্র্যান্ড ইমেজ প্রচারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজে লাইভ টকশোয় অংশ নেওয়া, করোনায় ধূমপায়ীদের ক্ষতি কম এ জাতীয় ভ্রান্ত তথ্য প্রচার ইত্যাদি অব্যাহত রেখেছে কোম্পানিগুলো।

ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর  নেতারা বলেন, তরুণ সমাজকে টার্গেট করে ভ্যাপিং ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তরুণদের ভ্যাপিং পণ্যে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সুযোগ থাকায় সরকারের নীতিপ্রণেতাদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। 

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক নীতি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে থাকে। অবিলম্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে তামাক কোম্পানির সব সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা।

একই সঙ্গে ওয়েবিনারে ই-সিগারেটসহ সব ভ্যাপিং এবং হিটেড তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধের আহ্বান জানানো হয় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৯৫৬ সালের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে তামাকপণ্যকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর বাংলাদেশ কান্ট্রি অ্যাডভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস এর মুখ্য পরামর্শক ড. মো. শরিফুল আলম, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, তামাকবিরোধী নারী জোটের (তাবিনাজ) আহ্বায়ক ফরিদা আক্তার, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের হেলথ ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতির (নাটাব) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মাদ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামের  (বিসিসিপি)  টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রোগ্রাম টিম লিডার মোহাম্মদ শামিমুল ইসলাম এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের প্রমুখ।

এম এ রহমান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়