Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৯ ১৪২৮ ||  ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সারোয়ারকে নির্যাতন স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে হুমকি: টিআইবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ৩ নভেম্বর ২০২০  
সারোয়ারকে নির্যাতন স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে হুমকি: টিআইবি

অপহরণের পর চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আরও একটি হুমকি বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর তাকে খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও নির্যাতনে অর্ধমৃত ও অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় তাকে ফিরে পাওয়াকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মানতেও নারাজ সংস্থাটি। 

অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

সোমবার (২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের নিখোঁজ হওয়া এবং নির্যাতনের পর আধমরা অবস্থায় তাকে খুঁজে পাওয়া মোটেও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং মুক্ত সাংবাদিকতা তথা স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে চলমান হুমকি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের নিষ্ঠুর ধারাবাহিকতামাত্র। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী উদ্ধারকালে সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের আর্তনাদ ‘ভাই, আমাকে মাইরেন না, আমি আর নিউজ করবো না’- শুধুই নির্যাতনে অপ্রকৃতস্থ অসহায় ব্যক্তির স্বগোক্তি নয়, বরং সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন এবং সাহসী সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের ভয়াবহ মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রমাণ। গণমাধ্যমের সার্বিক অবস্থার প্রতিচ্ছবিই যেন ফুটে উঠেছে গোলাম সারোয়ারের এ আর্তনাদের মধ্য দিয়ে! 

ড. জামান বলেন, নিয়মিত বিরতিতে সাংবাদিক নির্যাতন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে হামলা-মামলার ঘটনা ঘটলেও কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে যথোপযুক্ত শাস্তির দৃষ্টান্ত কার্যত অনুপস্থিত, যা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি। বরং একথা বলাও অত্যুক্তি হবে না যে, মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতা বিষয়ে সরকারের বারংবার উচ্চারিত কথামালা শুধুই ‘রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা’ মাত্র!

‘টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের আরও বেশ কিছু ঘটনার উদাহরণ রয়েছে, যার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত কিংবা বিচারের দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই না। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন-নীপিড়ন এমনকি অপহরণ-গুমের মত ঘটনাও সরকার, তথা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বসহকারে দেখছেন না?। আমরা আতঙ্কিত বোধ করছি, যখন দেখতে পাই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং সে কারণেই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। প্রভাবশালীদের অবৈধ স্বার্থ সুরক্ষা এবং তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টিতেই কি তাহলে এসব ঘটছে? ।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে হয়রানির উদাহরণ টেনে ড. জামান বলেন, একজন মানুষ নিখোঁজ হলে যেখানে রাষ্ট্র তথা আইনশৃঙ্খখবাহিনী সে বিষয়ে তড়িৎ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার মূল উদঘাটন করার কথা, সেখানে একধরনের ঐচ্ছিক ব্যর্থতাই নিয়মিত উদহারণ হয়ে উঠেছে। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব মুক্ত সাংবাদিকতা তালিকায় ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৫১তম অবস্থানও প্রমাণ করে যে, সাংবাদিকতা এদেশে ধারাবাহিকভাবেই কঠিন হয়ে উঠছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অন্যান্য বিভিন্ন আইনের চাপে গণমাধ্যম নিজেও ‘সেল্ফ সেন্সরশিপে’ গুটিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা ও বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই অবিলম্বে মুক্ত সাংবাদিকতার পথ উন্মুক্ত করতে আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব মহলের কাছে জোর আহ্বান জানাই। 

এম এ রহমান/এসএম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়