Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭ ||  ২৩ রজব ১৪৪২

‘বাংলাদেশে কোনো আল-কায়েদা নেই’ 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৯, ১৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২০:২৩, ১৮ জানুয়ারি ২০২১
‘বাংলাদেশে কোনো আল-কায়েদা নেই’ 

বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার কোনো অস্তিত্ব নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

‘বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আল-কায়েদার কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। দেশের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আল-কায়েদার কোনো উপস্থিতি নাই। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অজ্ঞতাবশত যখন এই বক্তব্য রাখেন, সেটি খুবই দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ ও বর্ণবাদ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও মনোযোগী হওয়া উচিত মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের বাস্তবতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে সহিংসতা দেখা দিয়েছে, সেখানে পার্লামেন্টে হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আমাদের দেশ কিংবা আশেপাশের কোনো দেশে কখন এমন হয়নি। এফবিআই তথ্য দিচ্ছে, তাদের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ গ্রহণের দিন দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়াতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসবাদ দমন করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব ও লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ এবং বর্ণবাদ এ দুটির ব্যাপারে তাদের আরো মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিএনপি ও জামাতের দোয়া মাহফিলে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে – এমন অভিযোগের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে আসছি যে, আসলে জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত বিএনপি এবং দেশে আরো কিছু গোষ্ঠি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শেষ পর্যন্ত দেখতে পেলাম, দোয়া-মাহফিলকেও ষড়যন্ত্রের অংশ এবং উপলক্ষ হিসেবে নেয়া হয়েছে। এটি আসলেই দুঃখজনক এবং এ ধরনের ষড়যন্ত্র তারা আগেও করেছে। কিন্তু এগুলো করে কোনো লাভ হবে না।’

পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ‌্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  শনিবার দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি ছিল, কোনো কোনো পৌরসভায় ৭০ শতাংশের বেশি এবং সার্বিকভাবে ৬১ শতাংশের বেশি। এমনকি ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা শঙ্কা-আশঙ্কা থাকার পরও ইভিএম ভোটেও উপস্থিতি ছিল ৫৭ শতাংশের বেশি। ভারতে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছিল। সেই তুলনায় আমাদের দেশে এ নির্বাচন অনেক শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচনের পর বিএনপি মহাসচিব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি স্বাভাবিক। প্রথম ও দ্বিতীয় দু’দফা নির্বাচনেই জনগণ কর্তৃক প্রচন্ডভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তাদের দুর্বলতা ঢাকা আর মুখ রক্ষার জন্য তারা এ বক্তব্য দিচ্ছেন। এরপরও বিএনপি কয়েকটি আসনে নির্বাচিত হয়েছে এজন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’

বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এখনও সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মির্জা আব্দুল কাদেরকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা আব্দুল কাদের বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামাতের প্রার্থীদের সম্মিলিত ভোটের চেয়ে তিনগুণ ভোট বেশি পেয়েছেন। এজন্য আব্দুল কাদের মির্জা নিশ্চয়ই অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য।’
 

 

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এসএন 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়