Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ২২ ১৪২৭ ||  ২২ রজব ১৪৪২

‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে শ্রমিকদের মূল্যায়ন প্রয়োজন’

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ২৩ জানুয়ারি ২০২১  
‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে শ্রমিকদের মূল্যায়ন প্রয়োজন’

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান (ফাইল ফটো)

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, ‘যেকোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে শ্রমিকদের মূল্যায়ন বেশি প্রয়োজন। এজন্য দরকার শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করা। কারণ, অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব নয়। শ্রমিক অস্থায়ী হলে কারখানার প্রতি তাদের ভালোবাসা থাকে না।’

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলন কক্ষে ‘ট্যানারি শিল্পে করোনার প্রভাব’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সংলাপে চামড়া খাতের ব্যবসায়ী, শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্প মালিকদের উদ্দেশে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তিন মাস বা ছয় মাস একজন শ্রমিককে শিক্ষানবিশ রাখতে পারেন। এর পরে তাকে স্থায়ী না করলে শুধু শ্রমিককে ঠকাচ্ছেন না, আইনও লঙ্ঘন করছেন।’

মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘করোনা মহামারির সময়ে শ্রমিকদের সঠিক তথ্য না থাকায় প্রণোদনার টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পেছনের কারণ হলো, মালিকরা শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করেননি। এজন্য তাদের তথ্য সরকারের কাছে পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, মালিকরা নিজেদের প্রণোদনা ঠিকই নিয়েছেন।’

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ‘ট্যানারিতে স্থায়ী শ্রমিক বেশি আছে। অস্থায়ী শ্রমিকের প্রয়োজন হয় মাত্র তিন মাসের জন্য। কোরবানির পর আমাদের শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। তাহলে আমরা কীভাবে স্থায়ী শ্রমিক নেব? ট্যানারি খাতে আগে থেকে অস্থায়ী শ্রমিক ছিল, আগামীতেও থাকবে।’

গবেষণাপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, ‘দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ট্যানারি আজ মুখ থুবড়ে পড়ার অবস্থা। এটা একদিনে হয়নি। এখানে ঘাটতি আছে সবার। এ শিল্পে এখনও শ্রমিকের ডাটাবেজ হয়নি। এ কারণে সরকারের প্রণোদনা পাচ্ছে না। করোনা মহামারির সময়ে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে চলে এসেছে। চাকরিচ্যুত হলেও এখানে আইন মানা হয়নি। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে আইএলও আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকা আবশ্যক।’

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন—এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, শ্রমিকনেতা ড. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, নাইমুল আহসান জুয়েল, সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

ঢাকা/শিশির/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়