Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭ ||  ১৯ রজব ১৪৪২

১২ কোটি টাকায় গাবতলী-মহাখালী বাস টার্মিনালের প্রথম ইজারা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ২৬ জানুয়ারি ২০২১  
১২ কোটি টাকায় গাবতলী-মহাখালী বাস টার্মিনালের প্রথম ইজারা

রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল প্রথমবারের মতো ইজারা দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এক বছরের জন্য ১২ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে এ দুটি বাস টার্মিনাল।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনে মেয়র আতিকুল ইসলামের কাছে চেক হস্তান্তর করেন ইজারাদাররা।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের আমলে বাস টার্মিনাল দুটি থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য সহযোগিতাকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ এক যুগেও দৈনিক আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়নি। এছাড়া, আদায় সহযোগিতাকারীরা নানা অজুহাত দেখিয়ে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা ডিএনসিসিকে জমা দেয়নি। এসব অনিয়ম দূর করার জন্য ডিএনসিসি’র মেয়র আতিকুল ইসলাম টার্মিনালগুলো উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। শুরুতে নানা বাধা-বিপত্তি ও হুমকি থাকলেও মেয়রের দৃঢ় নেতৃত্বে ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল দুটি থেকে তেমন রাজস্ব আদায় করা যায়নি। আমি এসে দেখেছি, এখানে অনেক আগে থেকেই গলদ ছিল। দুজনকে আদায়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে একটা ক্লজ ছিল—হরতাল বা বিভিন্ন কারণে যখন পরিবহন বন্ধ থাকবে, তখন ডিএনসিসিকে কোনো টাকা দিতে হবে না। এ সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তারা তাদের পাওনা টাকা তো দেয়নি, বরং সিটি করপোরেশনের কাছে টাকা দাবি করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ ধরনের অসম চুক্তি করা হয়েছিল। আমি বলেছি, এ ধরনের অসম চুক্তি আমরা মেনে নিতে পারি না। সিটি করপোরেশন রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই আমরা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দিয়েছি। আমরা যখন ইজারা দিতে গেলাম, আমাদের কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমি বলেছি, কারো কথা শোনার দরকার নেই। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হবে।’

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘গত ১২ বছরে কমপক্ষে ১৫০ কোটি টাকা আদায় করা যেত। এখন ইজারাদারদের বাস টার্মিনালগুলোতে সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শর্ত দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ইজারা বাতিল হবে। আগের বিশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা যাবে না। এই যে নতুন সিস্টেম প্রচলন হতে যাচ্ছে, এভাবে আস্তে আস্তে রাজধানীতে পরিবর্তন আসবে।’

২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরের জন্য লালমাটিয়াস্থ রাফি ট্রেডার্স লিমিটেডকে বার্ষিক ৭ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার টাকায় গাবতলী টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই টার্মিনালের বিদ্যুৎ ও পানির বিল ইজারাদার পরিশোধ করবে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে রাজস্ব আদায়ের উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হচ্ছে—যানবাহনের টার্মিনাল ফি ( বাস ও মিনিবাস ৫০ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা বা ট্যাক্সি ১০ টাকা, ঠ্যালা গাড়ি-ভ্যান ১০ টাকা, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত পিক আপ ৩০ টাকা)। মূল ভবনের স্থায়ী দোকান প্রতি বর্গফুট প্রতি মাসে ৫ টাকা, অস্থায়ী দোকান প্রতি বর্গফুট প্রতি মাসে ২৫ টাকা হারে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিল ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা। ১৫ ও ৩৬ বর্গফুটের অস্থায়ী টোকেনের দোকান মাসিক যথাক্রমে ২২৫ ও ৩৬০ টাকা। মূল ভবনের বাইরে স্থায়ী চা ও ফলের স্টল মাসিক ৭৫০ টাকা, পানের স্টল মাসিক ৫০০ টাকা, খাবারের স্টল মাসিক ১ হাজার টাকা। গাড়ি ধোয়ার র‍্যাম্প মাসিক ৬ হাজার টাকা।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সময় ২০০৯ সালের ৪ মে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে আদায় সহযোগিতাকারী হিসেবে দৈনিক ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা চুক্তিতে জনৈক মো. জসিম উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় ভ্যাট, আয়কর, বিদ্যুৎ ও পানির বিল ডিএনসিসি থেকে পরিশোধ করা হতো। ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তার কাছে ডিএনসিসির বকেয়া পাওনা ছিল ২ কোটি ৭৭ লাখ ৯৭ কোটি ৮৭৩ টাকা।

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের রাজস্ব আদায়ের জন্য ইব্রাহিমপুরের গাজী রাইয়ান এন্টারপ্রাইজকে ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালের বিদ্যুৎ ও পানির বিল ইজারাদার পরিশোধ করবে।

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে রাজস্ব আদায়ের উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হচ্ছে—যানবাহনের টার্মিনাল ফি (বাস ও মিনিবাস ৫০ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি ১০ টাকা, ঠ্যালা গাড়ি-ভ্যান ১০ টাকা, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ৩০ টাকা)। টার্মিনাল ভবনের ভেতরে ১০৪ বর্গফুট থেকে ৮৭৫ বর্গফুটের ৬টি দোকান ও ক্যান্টিন প্রতি বর্গফুট মাসিক ২১ টাকা থেকে ৩৩ টাকা ভাড়া। অস্থায়ী টোকেনের দোকান প্রতি বর্গফুট প্রতি মাসে ১৬ টাকা। ১টি বড় টিকেট কাউন্টার মাসিক ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ৩৯টি ছোট টিকেট কাউন্টার মাসিক ৭৩৫ টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিল ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা।

উল্লেখ্য, মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের আদায় সহযোগিতাকারী হিসেবে অবিভক্ত সিটি করপোরেশন থাকাকালে ২০০৯ সালের ১০ মে দৈনিক ৫০ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে মেসার্স সহিদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ভ্যাট, আয়কর, বিদ্যুৎ ও পানির বিল ডিএনসিসি থেকে পরিশোধ করা হতো। ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির কাছে ডিএনসিসির বকেয়া পাওনা ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।

ইজারার চেক হস্তান্তরকালে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মিজানুর রহমান, প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা সগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/সাওন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়