Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৩ জুন ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮ ||  ০১ জিলক্বদ ১৪৪২

রাশিয়ার ভ্যাকসিন কিনতে জিটুজি চুক্তির পরামর্শ

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৪, ১০ মে ২০২১   আপডেট: ২০:৫৮, ১০ মে ২০২১
রাশিয়ার ভ্যাকসিন কিনতে জিটুজি চুক্তির পরামর্শ

রাশিয়ায় উৎপাদিত করোনাভাইরাসের ভ‌্যাকসিন স্পুটনিক-ভি কিনতে সরকার টু সরকার (জিটুজি) অথবা বিজনেস টু গর্ভমেন্ট (বি টু জি) পদ্ধতিতে সরবরাহ চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সরকার রাশিয়া থেকে স্পুটনিক-ভি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তিও হয়েছে। ওই চুক্তির আলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত ‘সরবরাহ চুক্তি’ এর ওপর আর্থিক সংশ্লেষণ বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দেয়। ওই চিঠির জবাবে অর্থ বিভাগ সরবরাহ চুক্তিটি জিটুজি বা বিটুজি পদ্ধতিতে করার পরামর্শ দেয়।

রাশিয়ার টিকা আমদানি করতে প্রস্তাবিত ‘সরবরাহ চুক্তি’ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মতামত চাওয়া হলে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবিত ‘সরবরাহ চুক্তি’ পর্যালোচনা করে গত শনিবার এ পরামর্শ দেয়।

অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ‘সরবরাহ চুক্তি’র অনুচ্ছেদ ২.২ এ ‘প্লেস অব ডেসপাচ’ এর স্থান হজরত জালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দর হওয়া সমীচীন হবে। এক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের দাম, পরিবহন ব্যয়, বীমা খরচ ও স্থানীয় শুল্ক কর বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিনের কেনার চুক্তি আপাতত ১০ মিলিয়ন ডোজের (সিঙ্গেল ডোজ) জন্য করার পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, প্রতি মাসে ২ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে ১০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ নেওয়া পর উভয় পক্ষের পারস্পারিক সম্মতির ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন কেনার পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

অর্থ বিভাগের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ২.৮ অনুযায়ী ভ্যাকসিনের জন্য অগ্রিম ৫০ শতাংশ এবং ভ্যাকসিন বুঝে পাওয়ার পর ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা যেতে পারে। সরকার যেহেতু রাশিয়ার ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না, তাই অনুচ্ছেদ ৪.১ অনুযায়ী শূন‌্য দশমিক ১ শতাংশ রয়্যালিটির বিষয়টি বাদ দিতে হবে।

এছাড়া, স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিনের দাম কত হবে তা স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে পারে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ছয় ধাপে বাংলাদেশকে ৩ কোটি ডোজ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার পর বিকল্প উৎস থেকে টিকার সন্ধান শুরু করে বাংলাদেশ। এজন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার।

কমিটি টিকার জন্য বিকল্প চারটি উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, চীন, রাশিয়া, ভারত ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যায়। চলতি মাসেই চীন ৫ লাখ ভ্যাকসিন দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, টিকার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছিলেন, চীনের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ৬০ লাখ ডোজ করোনার টিকা দেওয়া প্রস্তাব দিয়েছে।

সূত্র জানায়,গত ২৭ এপ্রিল দেশে রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক-ভি এর জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত জরুরি জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ওষুধ, পরীক্ষামূলক ওষুধ, টিকা ও মেডিক‌্যাল সরঞ্জামবিষয়ক কমিটি এ অনুমোদন দেয়।

করোনার টিকা নিয়ে গঠিত কোর কমিটি রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি সংগ্রহের জন্য সুপারিশ করেছে। স্পুটনিক-ভি টিকার কার্যকারিতা ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ উল্লেখ করে কোর কমিটি বলেছে, এটি রাশিয়ার ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত। বিশ্বের ৬১টি দেশে এ টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজের দাম পড়বে প্রায় ১০ ডলার করে। সে হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে প্রায় ২৫ কোটি ডলার বা  বাংলাদেশি টাকায় ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

ঢাকা/হাসনাত/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়